শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রফি নয় স্বপ্নের জন্য লড়াই করা মানুষ হিসেবে স্মরণীয় হতে চান মেসি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

ট্রফি নয় স্বপ্নের জন্য লড়াই করা মানুষ হিসেবে স্মরণীয় হতে চান মেসি

ছবি: সংগৃহীত

আটটি ব্যালন ডি’অর, চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিসহ সম্ভাব্য প্রায় প্রতিটি শিরোপা জিতেছেন ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে ঈর্ষণীয় অর্জনে ঘেরা বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে নিজের মূল্যায়ন নিয়ে এক বিরল ও বিনম্র দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন তিনি।

ট্রফি ক্যাবিনেটে সাজানো শত শত স্মারক কিংবা রেকর্ডের পাহাড় দিয়ে নয়, বরং নিজের লক্ষ্য ও লালিত স্বপ্নের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া একজন নিষ্ঠাবান অ্যাথলেট হিসেবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্মৃতিতে বেঁচে থাকতে চান তিনি।

সম্প্রতি ক্রীড়াক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম একক ফুটবলার হিসেবে স্পেনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন মেসি। এই মর্যাদাপূর্ণ পদক আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের আগে দেশটির ওভিয়েদো শহরে সংবাদ সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের এই গভীর অনুভূতির কথা তুলে ধরেন ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক।

ভবিষ্যতের ফুটবলপ্রেমীরা তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করুক—এমন প্রশ্নের উত্তরে মেসি জানান, তিনি এমন একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিতি পেতে চান, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের প্রতিটি লক্ষ্য ও স্বপ্নের পেছনে নিঃশর্তভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

মেসির ভাষ্য, চলার পথে তিনি যা চেয়েছেন তা সব সময় হয়তো অর্জন করা সম্ভব হয়নি, তবে সামনে আসা প্রতিটি সুযোগ জয়ের চেষ্টা থেকে তিনি কখনো এক পা-ও পিছিয়ে আসেননি।

বার্সেলোনায় সোনালী ট্রফির যুগ পেরিয়ে কিংবা ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে শিরোপা হারানোর চরম হতাশা কাটিয়ে কাতারে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের অবিস্মরণীয় গল্প কেবল মেসির সহজাত প্রতিভার পরিচয় দেয় না, বরং এটি হার না মানা মানসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বৈশ্বিক ফুটবলে তীব্র চাপ ও ঘন ঘন ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়া উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য তার এই উপলব্ধি এক গভীর শিক্ষা।

আধুনিক ফুটবলের চরম প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেসি আরও উল্লেখ করেন, খেলাধুলায় জয় ছিনিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। তাই ট্রফি জয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্যের চেয়ে এই অর্জনের মধ্যকার পুরো চড়াই-উতরাই ও দীর্ঘ যাত্রাকেই মনেপ্রাণে উপভোগ করা উচিত, কারণ দিনশেষে চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটি কেবল একটি দলই ঘরে তুলতে পারে।

শুধু মাঠের অবিস্মরণীয় নৈপুণ্যের জন্যই নয়, বরং ‘লিও মেসি ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিবেদিত সমাজসেবামূলক অবদানের মূল্যায়ন হিসেবেও এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় মেসির হাতে।