অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
এক মৌসুমে অবিশ্বাস্য ৭৩ গোল করে প্রথমবারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। সোমবার নিজ শহর লন্ডনে বসছে ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জমকালো আসর।
বায়ার্ন মিউনিখের ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ অধিনায়ক আশা করছেন, ঘরের মাঠের এই আয়োজন তার জন্য স্মরণীয় কিছু হতে যাচ্ছে। বাজির দরপত্রেও অন্যদের চেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন তিনি।
গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন কেইন। তার পা থেকে এসেছে ৭৩টি গোল। ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১১-১২ মৌসুমে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ৮২ গোলের রেকর্ডের পর এক মৌসুমে কেইনের এই গোলসংখ্যাই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরা নিশ্চিত নয়। কারণ এবারের ব্যালন ডি’অরে দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
লড়াইয়ে বায়ার্ন তারকাকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী জুটি লামিন ইয়ামাল ও রদ্রি। পিছিয়ে নেই ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং কেইনের বায়ার্ন সতীর্থ মাইকেল ওলিসও। ইয়ামাল বা এমবাপ্পেরা গণমাধ্যমে পুরস্কার নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা স্পষ্ট করলেও কেইন শুরু থেকেই বরাবরের মতো সংযত ও শান্ত আচরণ বজায় রেখেছেন।
ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের সম্ভাবনার বিষয়ে কেইন জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি ভেবে চাপ নিতে চান না। তবে চারপাশের গুঞ্জন এড়িয়ে এটিকে মাথা থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখাও কঠিন। তার লক্ষ্য কেবল সোমবার রাতের মুহূর্তটি সরাসরি উপভোগ করা। তিনি এটিকে এক বিশাল আয়োজন এবং দারুণ এক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
পুরস্কার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি মানদণ্ডকে ভিত্তি ধরা হয়। এগুলো হলো একক পারফরম্যান্স ও মাঠের ব্যক্তিত্ব, দলীয় সাফল্য এবং আভিজাত্য ও ফেয়ার-প্লে। সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, বিজয়ীদের ঘরে হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপের মতো বড় ট্রফি থাকে, নয়তো কেবল অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত গোলের পাহাড় গড়ে ট্রফি নিজের করে নিতে হয়।
পরিসংখ্যানের বিবেচনায় কেইন একক পারফরম্যান্সে শতভাগ সফল।
টটেনহ্যামে থাকার সময় দলীয় শিরোপা না জেতার দীর্ঘদিনের অপবাদ গত মৌসুমে ঘুচিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে লিগ ও কাপ জিতে তিনি ঘরে তুলেছেন জোড়া ট্রফি। সব মিলিয়ে তার দলীয় শিরোপার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। তবে জার্মান ফুটবলে বায়ার্নের একক প্রভাব তার এই ব্যক্তিগত অর্জনের মূল্যায়নে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের দৌড় থেমেছিল সেমিফাইনালে। সেখান থেকে জয় ছিনিয়ে পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হয় পিএসজি। বিশ্বকাপে কেইনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যেখানে তিনি করেন ছয় গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।
ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে সর্বশেষ ২০০১ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন মাইকেল ওয়েন। আর বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে শেষবার ১৯৮১ সালে ব্যালন ডি’অর উঠেছিল স্ট্রাইকার কার্ল রুমেনিগগের হাতে। দীর্ঘ সময় পর এই দুই ইতিহাস নতুন করে লেখার সুযোগ কেইনের সামনে।
পুরস্কারের মঞ্চের দিকে চোখ থাকলেও দলীয় দায়িত্ব ভুলে যাননি এই ইংলিশ তারকা।
কেইন বলেন, সোমবারের রাতটি বিশেষ কিছু হতে পারে, তবে সবাইকে আনুষ্ঠানিক ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি জানান, রবিবারেও তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, তাই আপাতত মাঠের খেলায় নজর রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য। ফুটবলের অন্যতম সেরা এই আয়োজনে অংশ নিতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং উন্মুখ হয়ে আছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন