অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনের ডাক দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উত্তেজনা এড়াতে গালুয়া বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয়ে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা মৌরীর স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, জননিরাপত্তা রক্ষা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গালুয়া বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং মাইক বা যেকোনো ধরনের শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সীমানার মধ্যে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একসঙ্গে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের একটি আধাসরকারি চিঠিতে (ডিও লেটার) রাজাপুর পৌরসভা গঠন এবং গালুয়া ইউনিয়নকে ভেঙে দুটি ইউনিয়ন করার প্রস্তাব তোলা হয়। এই প্রস্তাবের বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গালুয়া ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখার দাবিতে শুক্রবার বিকেল চারটায় গালুয়া বাজারে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করে একটি পক্ষ। তাদের প্রচারিত প্রচারপত্রে বিভক্তির উদ্যোগ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক সেবার মান বৃদ্ধি, জননিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং গালুয়াকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তুলে ধরা হয়।
অপরদিকে বৃহত্তর পুটিয়াখালী এলাকাকে ৭ নম্বর ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণার দাবিতে একই দিন বেলা তিনটায় গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পৃথক মানববন্ধনের ডাক দেয় অন্য পক্ষ। ‘বৃহত্তর পুটিয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
একই স্থান ও কাছাকাছি সময়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়।
রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল জানান, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিহত করতে ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম রেজা সজীব জানান, গালুয়া ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাব ঘিরে একই স্থানে পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি পক্ষ মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়। নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের কোনো বাধা নেই। তবে মুখোমুখি অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন