বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাটকীয় ড্র

হ্যারি কেইনের গোল সত্ত্বেও আর্সেনালের সঙ্গে বায়ার্নের ড্রয়ে শেষ হলো ম্যাচ

স্পোর্টস ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:৩২ এএম

হ্যারি কেইনের গোল সত্ত্বেও আর্সেনালের সঙ্গে বায়ার্নের ড্রয়ে শেষ হলো ম্যাচ

হ্যারি কেইনের গোল ও বল বানিয়ে দেওয়ার চমৎকার নৈপুণ্যের পরও বায়ার্ন মিউনিখ জয়ের দেখা পায়নি। শেষমুহূর্তে কেইনের জাতীয় দল সতীর্থ ডেকলান রাইসের নাটকীয় গোলে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ লড়াইটি ২-২ ব্যবধানে সমতায় শেষ হয়েছে।

জয় হাতছাড়া হলো বায়ার্নের।

জার্মানির অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের ৮১ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়ার পথে ছিল স্বাগতিক বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু শেষদিকে গত আসরের রানার্সআপদের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন মিডফিল্ডার রাইস। এই এক গোলেই ছয়বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন বায়ার্নের ঘরের মাঠে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য করে গানাররা।

ম্যাচের শুরুটা আর্সেনালের জন্য ছিল গভীর উদ্বেগের। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় হাঁটুতে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তাদের তারকা উইঙ্গার বুকায়ো সাকা। সহখেলোয়াড়কে পাস দেওয়ার চেষ্টায় তিনি মাঠে পড়ে গিয়ে ব্যথায় নিজের হাঁটু চেপে ধরেন।

তবে প্রাথমিক এই মানসিক ধাক্কা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে আর্সেনাল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে আক্রমণভাগের তীব্রতায় এগিয়ে যায় সফরকারীরা। মিডফিল্ডার মার্টিন ওডেগার্ডের চমৎকার বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান এবেরেচি এজে। এরপর বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণ কোণাকুণি শটে বায়ার্নের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান তিনি। সহকারী রেফারি প্রথমে অফসাইডের সংকেত দিয়ে পতাকা তুললেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে গোল বহাল থাকে।

বায়ার্ন ম্যাচে ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি। ৩৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে হ্যারি কেইনের বাড়ানো নিখুঁত লম্বা থ্রু পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢোকেন কানাডিয়ান তারকা আলফনসো ডেভিস। আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে ডান পায়ের নিয়ন্ত্রিত কোনাকুনি শটে পরাস্ত করে বায়ার্নকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান তিনি।

বিরতির পর স্বাগতিকদের আক্রমণে গতি আরও বৃদ্ধি পায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনালের ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের উঁচু করে রাখা হাতে কেইনের জোরালো শট লাগলে রেফারি কালবিলম্ব না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৬১ মিনিটে পেনাল্টি স্পট থেকে নিখুঁত শটে গোল করে বায়ার্নকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে তার ক্যারিয়ারের ৫৮তম গোল।

আর্সেনালের বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি কেইনের ২৩ ম্যাচে ১৬তম গোল। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লন্ডনের ক্লাবটির বিপক্ষে নিয়মিত গোল করেছেন তিনি, যার সিংহভাগই এসেছিল সাবেক ক্লাব টটেনহাম হটস্পারের হয়ে। একই সাথে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০টি ম্যাচে গোল করার ব্যক্তিগত এক অবিস্মরণীয় কীর্তি নিজের নামের পাশে যুক্ত করলেন কেইন। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার এই আসরে টানা ১১ ম্যাচে গোল করার সর্বোচ্চ রেকর্ডটি এখনও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে রয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে পর্তুগিজ তারকা এই বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। রোনালদোর সেই মাইলফলক স্পর্শ করতে কেইনের প্রয়োজন আর মাত্র একটি ম্যাচে গোল।

কিন্তু ঘরের সমর্থকদের উৎসব দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি কেইনের ইংল্যান্ড সতীর্থ রাইস।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে পুরো অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনাকে স্তব্ধ করে দেন তিনি। ফরোয়ার্ড ভিক্টর গিয়োকেরেসের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় ওয়ান-টু পাসে বল আদান-প্রদান করে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বায়ার্নের জালে বল জড়িয়ে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। শেষপর্যন্ত আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ২-২ সমতায় খেলা শেষ হয়।

এই সমতার পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি মৌসুমের গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট অর্জন করে পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে আর্সেনাল। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৪তম অবস্থানে রয়েছে জার্মানির রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।