অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ব্যালন ডি’অর কীভাবে দেওয়া হয় তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে প্রতি বছরই থাকে তুমুল কৌতূহল। ফুটবল মাঠে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবলের এই সোনালী ট্রফিটিকে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বসেরা ফুটবলার নির্বাচনের পেছনে কাজ করে একটি নিখুঁত ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনী কাঠামো।
চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ৩০ জন পুরুষ ফুটবলারের একটি প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের মনোনীত একজন করে ফুটবল সাংবাদিক এই তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের ভোট দেন। সাংবাদিকদের দেওয়া সেই পয়েন্ট যোগ করেই নির্ধারিত হয় কে হবেন বছরের সেরা খেলোয়াড়। নারী বিভাগের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকেরা ভোট দিলেও সেখানে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ও যোগ্যতার মানদণ্ডে ভিন্নতা রয়েছে।
অতীতে ফিফার সাথে যৌথ উদ্যোগে `ফিফা ব্যালন ডি’অর` প্রদানের সময় জাতীয় দলের অধিনায়ক ও প্রধান কোচদের ভোটাধিকার ছিল। তবে ২০১৬ সাল থেকে ফ্রান্স ফুটবল পুনরায় এককভাবে এই ট্রফিটি প্রদান শুরু করায় বর্তমানে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ভোট প্রদানের সুযোগ পান।
ভোটদানের বর্তমান নিয়মানুযায়ী পুরুষ বিভাগে প্রতিটি বিচারক সাংবাদিক সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে নিজের পছন্দের ক্রমানুসারে মোট ১০ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেন। এই ১০ জনের মধ্যে পয়েন্ট বণ্টন করা হয় একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক ছকে। যেখানে প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় পান সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্ট। এরপর দ্বিতীয় স্থান পাওয়া ফুটবলার পান ১২ পয়েন্ট এবং তৃতীয় স্থান পান ১০ পয়েন্ট। পরবর্তী ক্রম অনুযায়ী চতুর্থ স্থান আট পয়েন্ট, পঞ্চম স্থান সাত পয়েন্ট, ষষ্ঠ স্থান পাঁচ পয়েন্ট, সপ্তম স্থান চার পয়েন্ট, অষ্টম স্থান তিন পয়েন্ট, নবম স্থান দুই পয়েন্ট এবং দশম স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান এক পয়েন্ট। সব বিচারকের দেওয়া পয়েন্ট একত্র করে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারীকেই ব্যালন ডি’অরজয়ী ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকাটি প্রস্তুত করেন ফ্রান্স ফুটবল ও ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপের অভিজ্ঞ সাংবাদিকেরা। মাঠের পারফরম্যান্স, দলীয় ও ব্যক্তিগত অর্জন এবং ম্যাচে খেলোয়াড়ের সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই তাঁরা এই তালিকা ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন।
নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল গোল সংখ্যাই জয়ের একমাত্র নিশ্চয়তা নয়। একজন ফরোয়ার্ডের গোল করার সামর্থ্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণকারী মিডফিল্ডার, রক্ষণভাগের ধারাবাহিক ডিফেন্ডার কিংবা গোলবারের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর মতো গোলরক্ষকের অবদানও মূল্যায়নে সমান গুরুত্ব পায়। ব্যক্তিগত প্রতিভার পাশাপাশি দলের যৌথ সাফল্যে একজন খেলোয়াড়ের ভূমিকা এবং মাঠে তার নেতৃত্বের গভীরতাও বিচারকেরা সতর্কতার সাথে বিবেচনা করেন। তাই ট্রফি জয় কিংবা গোলের পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থেকেও কেবল একক নৈপুণ্যের জাদুতে যে কেউ এই দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারেন।
যদি কখনো দুই বা ততোধিক ফুটবলারের অর্জিত মোট পয়েন্ট সমান হয়ে যায়, তবে জটিল টাইব্রেকার পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়। সমতা ভাঙতে প্রথমে দেখা হয় কে সবচেয়ে বেশি প্রথম পছন্দের (১৫ পয়েন্টের) ভোট পেয়েছেন। সেখানেও মীমাংসা না হলে ক্রমানুসারে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা পরবর্তী অবস্থানের ভোট গণনা করে চূড়ান্ত বিজয়ী আলাদা করা হয়।
মূল্যায়নের সময়সীমার ক্ষেত্রেও এসেছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন। ২০২২ সাল পর্যন্ত একটি সাধারণ ক্যালেন্ডার বছরের (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) পারফরম্যান্স বিচার করা হতো। কিন্তু ২০২২ সালের পর নিয়ম পরিবর্তন করে বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মৌসুমকে (আগস্ট থেকে পরবর্তী জুলাই) মূল্যায়নের ভিত্তি ধরা হয়। এর ফলে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যে খেলোয়াড়দের সামগ্রিক অবদানকে নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন