অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতির অপরাধকে চিরতরে ক্ষমার অযোগ্য বলে আখ্যা দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহ্যবাহী উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে দলটির কোনো ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বাসন বা তথাকথিত সমঝোতার সুযোগ নেই।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তার প্রধান নির্দেশদাতা ছিলেন শেখ হাসিনা। যার বিরুদ্ধে আদালতে ফাঁসির ব্যবস্থা তৈরি হয়ে আছে, সে দেশে ফিরে নিজে সেই দড়িতে ঝুলবে এমনটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা ভারতে আত্মরক্ষার জন্যই পালিয়েছেন, রাজনীতি রক্ষা বা দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে নয়। তিনি যদি দল বা রাজনীতিকে সত্যি ভালোবাসতেন, তবে কারাবরণ করলেও দেশ ছাড়তেন না।
আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া ও রাজনৈতিক পুনর্মিলন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, দলটি ক্ষমা চাইল কি চাইল না, তাতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের কিছু যায় আসে না। যারা এখন সমঝোতার বয়ান তৈরি করছেন, তারা মূলত অপশক্তির দোসর এবং গণহত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জনগণ এই কূটকৌশল বুঝে ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আগে বিচার হতে হবে, এর আগে কোনো রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ নেই।
বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং অভ্যুত্থানের কয়েকজন ছাত্রনেতার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী। তিনি দাবি করেন, অভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। ক্ষমতার মোহে দলটি ১৯৮৬ সালের মতো আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করতেও দ্বিধা করবে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় খুনিদের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনীর আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনা করে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে সাবেক মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করা চরম বিশ্বাসঘাতকতা। শহীদদের রক্তের অমর্যাদা করে কোনো আপস মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
গণঅভ্যুত্থানে দলীয় ভূমিকার মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, বিগত আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন। রাজপথে জীবন উৎসর্গকারী কর্মীদের অবদান তুলে ধরতেই তিনি দেশব্যাপী শহীদদের মাজার জিয়ারত ও তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করছেন।
এর আগে উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কামরুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা আক্তার। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন