অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে এক বিশেষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আঙ্কারায় অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে তুরস্কের আইনসভার বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন সংসদীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান এবং দলটির নেতা ডা. এস এম খালিদুজ্জামান।
উভয় পক্ষের মধ্যকার আলোচনায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের সমসাময়িক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নতুন যাত্রাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশ। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক উত্তরণ ও গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ও কার্যকর সংসদীয় চর্চা নিশ্চিত করতে তার দলের নানামুখী উদ্যোগ সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং এ মানবিক সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সরাসরি সহযোগিতার আবশ্যকতা তুলে ধরেন।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সুরক্ষায় শুরু থেকেই তুরস্কের অবিচল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তুরস্কের সরকার ও সেদেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি বিশেষ আনুষ্ঠানিক পত্র স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থনীতি, সংসদীয় রাজনীতি, আধুনিক প্রযুক্তি, শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সামগ্রিক মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আগামী দিনে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
উভয় দেশের এই শীর্ষ নেতৃত্ব ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন