অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে তেহরানের উত্থাপিত সাত দিনের রূপরেখা নিয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যাচাই শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাঠাবে তেহরান।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক যোগাযোগ থেমে নেই। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
আরাগচি উল্লেখ করেন, তেহরান নিজেদের প্রস্তাব পেশ করেছে, যা সাত দিনের পরিকল্পনা হিসেবে পরিচিত। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও তাদের হাতে পৌঁছেছে। বর্তমানে সেই জবাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াশিংটনকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
ইরানের প্রণীত এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার করা এবং একই সাথে ওয়াশিংটনের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগে আরাগচি জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র যদি এই রূপরেখা মেনে নেয়, তবে সাত দিনের প্রক্রিয়ায় পানিপথটি উন্মুক্ত করতে তেহরান প্রস্তুত।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শুরুর চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু সুনির্দিষ্ট পূর্বশর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে ষষ্ঠ দিনে প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু হবে এবং সপ্তম দিনে দুপক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে।
তেহরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানে সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা দেশটির যাবতীয় আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত সেপ্টেম্বর মাসে কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ যোগাযোগের সময় এই বিশেষ প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। পরবর্তীকালে ৩০ সেপ্টেম্বর ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি নিশ্চিত করেন যে দোহা মারফত মার্কিন বার্তা তেহরানের হাতে পৌঁছেছে, যদিও সেই বার্তার বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা তীব্র রয়েছে। গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবায়ন না করায় ইরান এখনও জলপথটিতে নৌ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ জারি রেখেছে। তেহরান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, তাদের শর্ত ও মার্কিন প্রতিশ্রুতি পূর্ণাঙ্গ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পর থেকে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। তখন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ আরোপিত হয়।
পরবর্তীতে জুনে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হলেও বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন