বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
প্রযুক্তি সংলাপ

প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও এআই প্রসারে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও এআই প্রসারে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বাসেডর ফেরদৌস শাহরিয়ার অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘এআই অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একই সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ৩০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি হলেও অল্প কয়েকটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন বা অন্য কোনো সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখনই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস বহুমুখী করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এআইকে শুধু সরকারি কাজ দ্রুত করার প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে চলবে না। এআই, সফটওয়্যার, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাংলাদেশের জন্য বিলিয়ন ডলার আয়ের বড় খাত হতে পারে।

তিনি বলেন, ছোট দেশ হয়েও ইসরায়েল হাজার হাজার প্রযুক্তি কোম্পানি ও একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও মেধাবী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে একইভাবে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্প্রতি বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সিলিকন ভ্যালি সফরের কথা উল্লেখ করে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, অ্যাপল, মেটা ও এনভিডিয়ার মতো বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। অ্যানথ্রপিকও বাংলাদেশে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে তিনি জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উইংকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংগুলোকে শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এসব উইংকে নতুন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়া নয়; প্রযুক্তির স্রষ্টা, মালিক ও রপ্তানিকারক হওয়া। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সেবা, ডিজিটাল পরিচয়, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য কার্যকর এআইভিত্তিক সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে তৈরি এসব প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব।

দেশের বিশাল বাজারকে কাজে লাগিয়ে হার্ডওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এআই নিয়ে আলোচনা শুধু সেমিনার বা সংলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়ী সমাজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে দ্রুত একটি বাস্তবমুখী ও সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।