বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

দুর্গোৎসব ঘিরে আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে, দাবি রাশেদ খাঁনের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

দুর্গোৎসব ঘিরে আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে, দাবি রাশেদ খাঁনের

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ভারতে বসে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা যাতে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সেজন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো চিহ্নিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য দল ও এর সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঠে সতর্ক থাকার কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলের চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনকালে সনাতন ধর্মের মানুষদের ওপর সবচেয়ে বেশি জুলুম-নির্যাতন হয়েছে এবং বিভিন্ন মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তার ভাষ্যমতে, এগুলো ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া যায় যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অনিরাপদ হয়ে পড়বে। মূলত এই সমীকরণ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ ভারতের আনুকূল্য ও অবৈধ সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ বিগত ১৬ বছর ভারতে তৈরি হওয়া সমীকরণের ওপর ভর করেই টিকে ছিল।

বর্তমানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসেই দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছেন।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার মাত্র কিছুদিন আগে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটিই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব হতে যাচ্ছে।

বিভিন্ন গোয়েন্দা ও মাঠপর্যায়ের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভারতকে বোঝানোর অপচেষ্টা চালানো হতে পারে যে নতুন সরকারের আমলে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ সময় ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো বিচ্ছিন্ন বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যমে বিকৃতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন হিসেবে প্রচার করা হয়।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে বহু শতাব্দী ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি নিয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। এই অন্তর্নিহিত অসাম্প্রদায়িক ঐক্য বিনষ্ট করার চক্রান্ত অতীতেও সফল হয়নি এবং এবারও কোনো অরাজকতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।