মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরসহ চার স্থানে হুতিদের হামলার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরসহ চার স্থানে হুতিদের হামলার দাবি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দুটি কৌশলগত বিমানবন্দরসহ মোট চারটি স্পর্শকাতর স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় গোষ্ঠীটি এই সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে।

হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানী রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক ভবন এবং দুটি আলাদা বিমানবন্দরে অবস্থানরত সামরিক পরিবহন বিমানকে লক্ষ্য করে এসব বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক অগ্রযাত্রা প্রতিহত করারও দাবি করেছে তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক কয়েকটি বার্তায় হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এসব অভিযানের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ভবন লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। অন্য এক বিবৃতিতে সারি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন বহর দিয়ে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানা হয়।

এ ছাড়া নাজরান বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত সৌদি সামরিক পরিবহন বিমান লক্ষ্য করে দুটি পৃথক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করা হয়েছে। এর একটি সরাসরি নাজরান বিমানবন্দরে এবং অপরটি কিং খালিদ বিমানঘাঁটির সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে বলে জানান হুতিদের মুখপাত্র।

তবে হুতি বিদ্রোহীদের এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবির বিষয়ে সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাস থেকেই সৌদি ভূখণ্ডের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অভিযানের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে হুতিরা। বিশেষ করে চলতি অক্টোবর মাসে বেসামরিক বিমানবন্দর, তেল প্রক্রিয়াকরণ কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোট।

পশ্চিমা বিশ্ব ও সৌদি জোটের পক্ষ থেকে দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করা হচ্ছে যে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে ইরান সামরিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। অন্যদিকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির বিস্তীর্ণ উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে ধরে রেখেছে হুতিরা।