অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মিসরীয় আইনসভার এক বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
পার্লামেন্টের তথ্যমতে, সৌদি আরবকে প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা দিতে আইনপ্রণেতাদের সম্মতি চেয়ে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি। প্রেসিডেন্টের সেই প্রস্তাবটি বিল আকারে আইনসভায় উত্থাপন করা হলে অধিকাংশ সংসদ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে রায় দেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াতে এই সামরিক সহায়তার আবেদন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট সিসি।
এই প্রতিরক্ষা সহায়তার আওতায় সৌদি আরবে মিসরীয় সেনা মোতায়েনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন। বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে বিলটি ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হয়।
আইনসভায় বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রেসিডেন্ট সিসি এখন থেকে সৌদি আরবের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব এবং পবিত্র স্থানগুলো সুরক্ষার লক্ষ্যে দেশটির সরকারের সাথে সমন্বয় করে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।
পার্লামেন্টের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, আঞ্চলিক সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং এটি কীভাবে মিসর ও আরব বিশ্বের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আইনপ্রণেতারা।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর মিসরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্টের বর্তমান এই সিদ্ধান্তটি সেই বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথি গোষ্ঠীর আক্রমণ থেকে সৌদি আরবকে নিরাপদ রাখতে মিসর তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কী কী সামরিক কৌশল অবলম্বন করবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু খোলাসা করা হয়নি। এমনকি ঠিক কতসংখ্যক মিসরীয় সেনা মোতায়েন করা হবে কিংবা কবে নাগাদ তারা দায়িত্ব পালন শুরু করবে, সে সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।
প্রেসিডেন্ট সিসির এই বিশেষ অনুরোধ কার্যকরে গত সপ্তাহে দুটি পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার আইনপ্রণেতারা তৃতীয় রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে বসেন এবং ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং দেশটির বিদ্রোহী হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের পটভূমিতেই কায়রোর পক্ষ থেকে এমন কৌশলগত সামরিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা এলো।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন