মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
জ্বালানি খাতের সংকট

১৭ বছরের অপরিকল্পিত ব্যবস্থার মাশুল দিতে হচ্ছে দেশকে: জ্বালানিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

১৭ বছরের অপরিকল্পিত ব্যবস্থার মাশুল দিতে হচ্ছে দেশকে: জ্বালানিমন্ত্রী

বাংলাদেশকে বিগত ১৭ বছরের অপরিকল্পিত ব্যবস্থার চরম মাশুল দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্টে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অতীতের ভ্রান্ত নীতির খেসারত দিচ্ছে জনগণ।

জ্বালানিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিকল্প উৎস থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির লক্ষ্যে আলজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। গত সাত-আট মাসে কেবল এলএনজি কিনতেই আন্তর্জাতিক বাজারে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে।

পল্লী বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থায় আধুনিক ফল্ট ডিটেক্টর না থাকার কারণে লাইনের ত্রুটি সারাতে অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে এবং এর প্রভাবেই লোডশেডিং বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি আরও জানান, কৃষির সেচ কার্যক্রমকে সৌরশক্তির আওতায় আনতে মন্ত্রণালয় বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বিগত সরকারের অপরিকল্পিত কুইক রেন্টাল নীতির তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ওই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে গেছে। বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ বুঝতে হলে অতীতের এই ভুল ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকাতে হবে।

আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে বিশেষ জ্বালানি আইন চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

সৌরবিদ্যুতের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সচেতনতা ও প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে আগামী নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সোলার এক্সিবিশন শুরু হবে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ বাস্তব ও কাঠামোগত কারণেই বর্তমানে লোডশেডিং মেনে নিতে হচ্ছে। নির্বাচিত সরকারের এই জটিল সংকট অনুধাবন করার কেউ নেই বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।