অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার আপন বোন বা শ্যালিকাকে বিবাহ করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ অবৈধ ও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এক বোন বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর সহোদরাকে বিয়ে করলে সেই বিবাহ শরিয়ত অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হয় না। ফলে শ্যালিকা কোনোভাবেই তার স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবেন না। তবে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর মূল বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যাবে না। কিন্তু জেনেবুঝে এমন হারাম পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট পুরুষটি মারাত্মক গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবেন।
ইসলামে আপন দুই বোনকে একত্রে বিয়ে করে একই স্বামীর অধীনে সংসার করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করেছেন। সুরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে অতীতে অজ্ঞতাবশত যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন কথা; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
হাদিস শরিফেও এই বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
সহিহ বুখারির পাঁচ হাজার ১০৭ নম্বর হাদিসে উম্মুল মুমিনিন উম্মু হাবিবা (রা.) থেকে একটি ঘটনা বর্ণিত রয়েছে। তিনি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার বোন অর্থাৎ আবু সুফিয়ানের আরেক কন্যাকে বিবাহ করার জন্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এক স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তার সহোদরাকে বিবাহ করা তার জন্য হালাল নয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো নির্দেশনা দিয়েছেন যে, কোনো নারীকে তার ফুফু কিংবা তার খালার সঙ্গে একত্রে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা যাবে না।
কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিষয়টি সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট। কোনো ব্যক্তি যদি এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে স্ত্রীর বোনের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিবাহটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল ও ভিত্তিহীন গণ্য হবে। তাদের মধ্যকার কোনো পারিবারিক বা শারীরিক সম্পর্কও জায়েজ থাকবে না।
তবে স্ত্রীর মৃত্যু হলে কিংবা শরিয়তসম্মত উপায়ে বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার পর ইদ্দতকাল অতিক্রম করলে তার বোনকে বিয়ে করায় কোনো বাধা নেই। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই দুই সহোদরা বোনকে একসঙ্গে এক স্বামীর অধীনে রাখা ইসলামে বৈধ নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন