বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,

চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘ ৩৬ দিনের টানা অচলাবস্থা কাটিয়ে সীমিত পরিসরে আবারও শুরু হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে পাঠদান শুরুর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে ফেরেন। এই ক্লাসের মধ্য দিয়ে সকাল ১১টা পর্যন্ত ওই বিভাগের শিক্ষাদানের প্রক্রিয়া সচল থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১২টি বিভাগের মধ্যে কেবল একটি বিভাগেই পাঠদান অনুষ্ঠিত হতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ ছাড়া বাকি ১১টি বিভাগের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম এদিনও পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উপস্থিতিও ছিল বেশ কম।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাওলাদার জানান, বুধবার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ক্লাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত একাডেমিক রুটিনে ব্যবহারিক বা ল্যাব ক্লাস থাকলেও বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতে তা স্থগিত রাখা হয়েছে।

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা জানান, সকাল ৯টা থেকে ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস নেওয়া হয়েছে।

বিভাগীয় প্রধান উল্লেখ করেন, সব ব্যাচেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল, তবে ২১ ও ২২ ব্যাচের উপস্থিতি কিছুটা আশাব্যঞ্জক ছিল। আগামী দিনগুলোতে শ্রেণিকক্ষে আরও বেশি শিক্ষার্থী ফিরে আসবেন বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও উপাচার্য পদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী সংকটের এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।

চলমান এই প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গঠিত ছয় সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথেও প্রতিনিধি দলটির আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংকটের গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষের সঙ্গেই ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে কমিশন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পরপরই তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৩৬ দিন পর সীমিত পরিসরে ক্লাসের সূচনা হলেও উপাচার্য জটিলতা না কাটায় ক্যাম্পাসে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।