বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ঝিনাইদহে আমন ধানের ফলন নিয়ে আশাবাদী কৃষক

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

ঝিনাইদহে আমন ধানের ফলন নিয়ে আশাবাদী কৃষক

আমন ধানের ফলন চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহে নির্ধারিত সরকারি লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। অনুকূল আবহাওয়া, পরিমিত বৃষ্টিপাত এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় এবার জেলাজুড়ে বাম্পার উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। মাঠের পর মাঠ এখন বাতাসে দুলছে সোনালি ও সবুজ ধানের শীষ। কোথাও কোথাও আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে, আর কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে নতুন ফসল ঘরে তোলার আগাম প্রস্তুতি।

জেলায় এবার বাড়তি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় আবাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ ও অনুকূল পরিবেশের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অতিরিক্ত ১০০ হেক্টর বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ফলে সামগ্রিক আবাদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার ৬০০ হেক্টরে।

উপজেলাওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ধান চাষ হয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়। এখানে মোট ২৫ হাজার ২৫২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে।

এছাড়া শৈলকুপায় ২৪ হাজার ৯৪৫ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১৮ হাজার ৭৩৪ হেক্টর, মহেশপুরে ১৮ হাজার ১৫৫ হেক্টর, হরিণাকুণ্ডুতে ১১ হাজার ২৩২ হেক্টর এবং কোটচাঁদপুর উপজেলায় ছয় হাজার ১৮২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমন ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া চাষের পক্ষে ছিল। অতিরিক্ত বৃষ্টি বা কোনো ধরনের বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ধানের চারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে। মাঠপর্যায়ে সময়মতো সঠিক পরিচর্যা পাওয়ায় পোকা ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ এবার নেই বললেই চলে।

ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, মাঠে এখন ধানের শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে এবং কিছু আগাম জাতের ধান ইতিমধ্যে কাটাও হয়েছে। আর কয়েক সপ্তাহ পরেই পুরোদমে ধান কাটার মহোৎসব শুরু হবে। হরিণাকুণ্ডুর সিংগা গ্রামের কৃষক লাল্টু মিয়া জানান, শেষ মুহূর্তে আকস্মিক ঝড় বা দমকা বাতাস না হলে এবার ফসলের কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা শুরু থেকেই চাষিদের পাশে ছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে তাদের মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ঝিনাইদহে উৎপাদিত এই বাড়তি ধান জেলার স্থানীয় খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় খাদ্যভাণ্ডারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।