মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
কৃষি ও বাণিজ্য

দেবীগঞ্জে দেশের বড় জলপাইয়ের হাট: দিনে বিক্রি ৫০ লাখ টাকা

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

দেবীগঞ্জে দেশের বড় জলপাইয়ের হাট: দিনে বিক্রি ৫০ লাখ টাকা

ছবি :সংগ্রহীত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলায় জমে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ জলপাইয়ের মৌসুমি হাট। সারি সারি জলপাইয়ের স্তূপ, ওজন মাপা, বাছাই এবং বস্তাবন্দী করে ট্রাকে তোলার কাজে মুখর পুরো এলাকা। প্রতিদিন এই হাটে ১৪০ থেকে ২০০ টন জলপাই কেনাবেচা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই হাটে জলপাই কেনাবেচা চলে। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী থেকে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জলপাই নিয়ে আসছেন দেবদারুতলার এই বাজারে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারেরা এখান থেকে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

হাটে জলপাই বিক্রির বিষয়ে দেবীগঞ্জের পূর্ব দেবী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার প্রথমবারের মতো নিজের গাছের জলপাই হাটে এনেছেন। একটি গাছের জলপাই বিক্রি করে তিনি ভালো দাম পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র সংগ্রাহকদের উপস্থিতিতে হাটের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালের ব্যবসা করছেন। উত্তরবঙ্গের এই বড় বাজার থেকে তিনি নিয়মিত আট থেকে বারো টন জলপাই কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন। তার মতো আরও অনেক ব্যবসায়ী এখানে পাইকারি কেনাবেচা করছেন।

জলপাইয়ের এই বাণিজ্যকে ঘিরে হাটে দুই শতাধিক শ্রমজীবীর কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক জলপাই বাছাই, পরিষ্কার ও ট্রাকে বোঝাইয়ের কাজ করছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জলপাই বাছাই ও বোঁটা ছাড়িয়ে প্রতিদিন ৩০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন সাবিত্রী দাসের মতো শ্রমজীবী নারীরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে জলপাই চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, এই বাণিজ্য স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও ভূমিকা রাখবে।

তবে বাজারে জলপাই সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। ফলে কেনাবেচার পরপরই দ্রুততম সময়ে কাঁচা ফল ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা হাটের জায়গা সম্প্রসারণ এবং সরকারি উদ্যোগে একটি হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা জানান, হাটের জায়গা সম্প্রসারণের জন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে একটি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে যোগাযোগ রাখা হবে।