অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
মরুভূমির ফল হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের খেজুর এখন সফলভাবে উৎপাদিত হচ্ছে পাবনার মাটিতে। জেলার আটঘড়িয়া উপজেলার গুরুবাসী গ্রামের কৃষক সাইফুদ্দিন হিরু পরীক্ষামূলকভাবে খেজুর চাষ শুরু করে মাত্র তিন বছরেই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।
তার বাগানের গাছে গাছে এখন ঝুলছে মরিয়ম ও আজওয়া জাতের পুষ্ট খেজুর।
শখের বশে ২০২২ সালে মাত্র ১০টি বীজ রোপণের মাধ্যমে এই উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন সাইফুদ্দিন হিরু। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা ও আশপাশের মানুষের নানা মন্তব্য শুনলেও তিনি থেমে যাননি। তিন বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যায় সেই শখের বাগানই এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ১৫০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গাছে ইতোমধ্যে ফল এসেছে।
ফল উৎপাদনের পাশাপাশি নিজের বাগানেই কলম ও বীজ থেকে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন করছেন তিনি। নতুন কেউ খেজুর বাগান করতে চাইলে চারা সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই সফল চাষি। তিনি জানান, সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে এই ফল চাষে প্রচুর লাভ করা সম্ভব।
বাগানের এমন সাফল্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও খেজুর চাষ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দেশে বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের আবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। বাগান পরিদর্শনে আসা দর্শনার্থীরা জানান, নিজ চোখে দেশের মাটিতে এমন মিষ্টি ও সুস্বাদু খেজুর ফলতে দেখে তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং অনেকেই হিরুর কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণের পরিকল্পনা করছেন।
দেশের মাটিতে খেজুর চাষের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগ্রহী কৃষকদের পাশে থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তৃণমূল পর্যায়ে এই চাষ ছড়িয়ে পড়লে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের কৃষিখাতে সূচিত হবে একটি সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন