অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষের সামনে হঠাৎ ঢলে পড়ে ২৮ বছর বয়সী এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে করিডোরে তার লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
নিহত ওই নারীর নাম মুসকান। মাত্র চার মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল।
ঘটনার সময় তিনি স্বামীর সাথে ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। মুসকানের পরিবারের দাবি, তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে।
গত সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে ঝাঁসির ঋষভ হোটেলে ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হোটেলের করিডোর দিয়ে তিন ব্যক্তি একটি কক্ষের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। মুসকানের স্বামীসহ দুজন আগে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং পেছনে ছিলেন মুসকান। তবে দরজার কাছাকাছি পৌঁছাতেই তিনি হঠাৎ করিডোরে ভারসাম্য হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
মুসকান পড়ে যাওয়ার পরপরই তার স্বামী কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে তাকে কোলে তুলে ভেতরে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে মুসকানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুসকানের বাবার বাড়ি ঝাঁসিতে হলেও বিয়ের পর তিনি মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় বসবাস করতেন। চলতি বছরের ২৯ জুন নিলেশ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ঘটনার সময় তিনি স্বামীর সঙ্গেই ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
পারিবারিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী নিলেশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, নিলেশ পূর্বেও বিবাহিত ছিলেন, যা বিয়ের সময় পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছিল। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঝাঁসির পুলিশ সুপার (সিটি) প্রীতি সিং জানান, সিপ্রি বাজার থানা পুলিশ জেলা হাসপাতাল থেকে খবর পায় যে এক নারীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে স্বামী নিলেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিলেশ দাবি করেন, তারা আগের রাতে ঋষভ হোটেলে উঠেছিলেন এবং সকালে হোটেল ছাড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে।
স্বামী পুলিশকে জানান, কক্ষে যাওয়ার সময় মুসকান হঠাৎ পড়ে যান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় অটোরিকশায় করে প্রথমে নিকটবর্তী হাসপাতালে এবং পরে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সুপার প্রীতি সিং উল্লেখ করেন, নিহতের বাবার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে নিহতের পিতা রামজি লাল অহিরওয়ার দাবি করেছেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, গত ২৩ অক্টোবর রাতে নিলেশ ঝাঁসিতে আসেন এবং পরদিন খালার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মুসকানকে সঙ্গে নিয়ে বের হন।
রামজি লালের ভাষ্যমতে, খালার বাড়িতে না নিয়ে নিলেশ তার মেয়েকে ঋষভ হোটেলে তোলেন, যা ২৩ থেকে ২৪ অক্টোবরের জন্য আগেই বুকিং দেওয়া ছিল। একপর্যায়ে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে নিলেশ তাদের বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিলেন। পরিবার এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ।
মুসকানের পিতা আরও জানান, নিলেশের আগের একটি বিয়ে ছিল যা ইন্দোরে থাকে এবং এ নিয়ে বিয়ের পর থেকেই সংসারে টানাপোড়েন চলছিল। নিহতের পরিবারের আনা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন