অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
জর্ডানের কারাক প্রদেশের একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান। সোমবার চালানো এসব হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনটি শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। হামলার পর জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের প্রধান সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার জবাবে সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের দাবি, সিরিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী আরো বলেছে, হামলায় এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অনেক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। পাশাপাশি তাদের বেশ কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে।
তবে জর্ডানের সঙ্গে হামলার বিষয়ে কোনো সমন্বয়ের কথা অস্বীকার করেছে সিরিয়া। দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, আগাম সমন্বয় বা অবহিত না করেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সিরিয়া।
সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দেশটির দেরা ও সুয়েইদা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় অন্তত চারটি স্থানে হামলা হয়েছে। এসব হামলার পর সাতজনের লাশ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে।
সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পাঁচজন—একজন পুরুষ, একজন নারী ও তিনটি শিশু—একই পরিবারের সদস্য। দেরা প্রদেশের আল-তাই গ্রামের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় তারা নিহত হন। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরো তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
দেরা প্রদেশের আল শাইয়া এলাকায় দ্বিতীয় হামলায় ৮০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হন। একই প্রদেশের আইন আল-বাসাল এলাকার মুজাইরিব শহরে একটি আবাসিক ভবনে তৃতীয় হামলাটি চালানো হয়। এতে কেউ হতাহত হননি।
চতুর্থ হামলাটি হয় সুয়েইদা প্রদেশের শাহবা শহরের একটি আবাসিক ভবনে। এতে ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিহত হন।
বিমান হামলার পর সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ নাসিব সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয়। এতে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন উভয় দিকেই বন্ধ হয়ে যায়। নাসিবই জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যাত্রী এবং বাণিজ্যিক পণ্য চলাচলের একমাত্র সীমান্তপথ।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হামলাকে বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে এই ঘটনার পরিণতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে মন্ত্রণালয়।
এর আগে সোমবার জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী গির্জায় হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুই ভাই ও তাদের ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করে। দেশটির আল-জাদিদা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের পর তাদের আটক করা হয়।
জর্ডান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হন।
গির্জায় হামলার পর জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। এর পরই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং সিরিয়ায় বিমান হামলার ঘটনা ঘটল।
শুক্রবার জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে কারাকের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে হামলা চালান তিন বন্দুকধারী। তারা সেখানে উপস্থিত শোকাহত লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে অন্তত ৯ জন নিহত হন এবং অসংখ্য ব্যক্তি আহত হন।
রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছেন, হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সবচেয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। কারাকে জর্ডানের সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে। দেশটির মোট এক কোটি ১৫ লাখ মানুষের মধ্যে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন