অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে বুধবার এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। সাগরে তৈরি হওয়া এই ঝড়ের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর তিনটায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল। ওই সময় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল এর অবস্থান।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের আশপাশে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছে থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে গিয়ে বুধবার অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে এবং দমকা হাওয়ায় তা ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পুদুচেরিতে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলেদের সাগরে যেতে নিষেধ করার পাশাপাশি খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ।
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি বড় আঘাত না থাকলেও বাংলাদেশে এর প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু অংশ এবং খুলনা ও বরিশালের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার এই তিন বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবারও কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং শুক্রবার দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড়টির মূল কেন্দ্র ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানলেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সরাসরি বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা নেই। তবে মঙ্গলবার থেকেই উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে সতর্কবার্তায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ থেকে নিয়মিত নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন