অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে শুরু করে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে ধাপে ধাপে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকা এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে বৃষ্টির আওতা আরও বিস্তৃত হবে। এদিন খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির দেখা মিলবে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করে এই অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অধীন গঠিত আঞ্চলিক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
এসব দেশের প্রস্তাবিত নামের সমন্বয়ে গঠিত নির্ধারিত তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঝড়ের নামকরণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী `অর্ণব` নামটি প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ, যার আভিধানিক অর্থ সাগর।
আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে বর্তমানে অবস্থানরত দুটি লঘুচাপের মধ্যে যেটি প্রথমে সুস্পষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটির আনুষ্ঠানিক নাম হবে অর্ণব। এর পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য নাম নির্ধারণ করা রয়েছে `মুরাসু`, যা ভারতের প্রস্তাবিত এবং তামিল ভাষায় এর অর্থ ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন