অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে ধাপে ধাপে শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম রাখা হবে ‘অর্ণব’। তবে ঝড়টির গতিপথ সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলের দিকে আসার আশঙ্কা এখন পর্যন্ত কম।
শনিবার সকালে লঘুচাপটি পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছিল। এটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, শনিবারের মধ্যেই এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে এবং আগামী সোমবারের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সিস্টেমটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর গতিমুখ বাংলাদেশের দিকে হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম হলেও আবহাওয়াবিদরা কোনো ঝুঁকি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ঝড়টি শেষ পর্যন্ত ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতিপথ ভিন্ন হলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৭ অক্টোবর বা তার পর থেকে দেশের খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলেও বৃষ্টি ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলতি অক্টোবরের শুরুতেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল যে এ মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ, যার বাংলা অর্থ সাগর। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় যেকোনো সিস্টেম আগে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা পেলে সেটি এই নামে পরিচিত হবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।
এই অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে মোট ১৩টি দেশ। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। জাতিসংঘের অধীন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নির্ধারিত তালিকা থেকে এই নামগুলো পর্যায়ক্রমে বেছে নেওয়া হয়।
‘অর্ণব’-এর পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয়েছে ‘মুরাসু’। ভারতের দেওয়া এই নামের অর্থ তামিল ভাষায় ঐতিহ্যবাহী ডঙ্কা বা ঢোল, যা প্রাচীনকালে রাজকীয় ঘোষণা ও সতর্কবার্তা প্রচারের কাজে বাজানো হতো। ২০০০ সাল থেকে একাধিক ঝড়ের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে এই আনুষ্ঠানিক নামকরণের নিয়ম কার্যকর রয়েছে। তবে এই লঘুচাপটি ঠিক কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, তা জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যের ওপর নজর রাখতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন