মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
বিশ্ব ফুটবলের স্বীকৃতি

ব্যালন ডি’অর ২০২৬ আসরে সেরাদের তালিকা কে কোন পুরস্কার জিতলেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

ব্যালন ডি’অর ২০২৬ আসরে সেরাদের তালিকা কে কোন পুরস্কার জিতলেন

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে তৃতীয়বারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা নিজের করে নিয়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস।

লন্ডনে স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাতে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার।

২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের ইতিহাস গড়লেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার কেইন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে অবিশ্বাস্য গোল ধারাবাহিকতাই তাকে এনে দিয়েছে এই স্বীকৃতি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি করেন ৬১ গোল, যা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে ১৯টি বেশি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এক মৌসুমে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা, যা ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর করা ৬১ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে।

ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গেল মৌসুমে কেইনের মোট গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান এনে দিতেও তার অবদান ছিল সামনে থেকে। এমন বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের সুবাদে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও উঠেছে তার ঝুলিতে।

চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে ব্যালন ডি’অরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে কেইনকে বিজয়ী ঘোষণা করে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হলে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একই সাথে এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে বিজয়ী দেখিয়েও নিবন্ধ এসেছিল। পরে অবশ্য সেগুলো মুছে ফেলা হয়। মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে কেইনের হাতেই ওঠে সেই সোনালী ট্রফি।

পুরুষদের লড়াইয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তৃতীয় হন বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে ছিলেন যথাক্রমে বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি এবং লিওনেল মেসি।

প্রধান পুরস্কার না পেলেও কোপা ট্রফি জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট নিজের রেখেছেন ইয়ামাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ২৪টি গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১৭টি গোল করিয়েছেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো কিশোর খেলোয়াড়ের জন্য এটি সর্বোচ্চ গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

বার্সেলোনাকে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া ইয়ামাল মঞ্চে উঠে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সতীর্থ পাউ কুবারসিকে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পুরস্কারটি কুবারসিরই প্রাপ্য ছিল। বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের খেতাব পেয়েছিলেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কুবারসি।

স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উপহার দেওয়া লুইস দে লা ফুয়েন্তে জিতেছেন পুরুষদের বর্ষসেরা কোচের জোহান ক্রুইফ ট্রফি। স্পেনের দুর্গ সামলানো গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতেছেন পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি। বিশ্বকাপে আট ম্যাচে কেবল একটি গোল হজম করেন তিনি, যা বিশ্বজয়ের মঞ্চে টুর্নামেন্টজুড়ে অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক রেকর্ড।

এদিকে নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে আইতানা বোনমাতির তিনবার জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক বর্তমানে মাঠ মাতাচ্ছেন ইংলিশ ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসের হয়ে।

নারীদের বর্ষসেরা কোচের জোহান ক্রুইফ ট্রফি উঠেছে বার্সেলোনার পেরে রোমেউয়ের হাতে। তার অধীনে লিগে ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২৯টিতেই জয় পায় বার্সেলোনা, যেখানে তাদের গোল ব্যবধান ছিল ১২১। নারী গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার কাতা কোল, যিনি ১৭ ম্যাচে মাত্র ছয় গোল হজম করে ১১টি ম্যাচেই কোনো গোল হজম করেননি।

ক্লাব পর্যায়ে নারী বিভাগে সেরা হয়েছে বার্সেলোনা এবং পুরুষ বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান পায় ফরাসি ক্লাবটি।

মেক্সিকো ও পাচুকার স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল জিতেছেন নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি। ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে এই সম্মাননা পাওয়া প্রথম মেক্সিকান ফুটবলার হিসেবে তিনি ইতিহাস তৈরি করেছেন।

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর মঞ্চের সম্পূর্ণ বিজয়ী তালিকা:
পুরুষদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের ব্যালন ডি’অর: আলেক্সিয়া পুতেয়াস (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন)
নারীদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা)
পুরুষদের কোপা ট্রফি: লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন)
নারীদের কোপা ট্রফি: ভিকি লোপেজ (বার্সেলোনা/স্পেন)
পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি: উনাই সিমন (অ্যাথলেটিক ক্লাব/স্পেন)
পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি: চার্লিন কোরাল (পাচুকা/মেক্সিকো)