মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
দুর্নীতির মামলা

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি

দুর্নীতি, প্রতারণা ও বেআইনি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ইসলামী ব্যাংকের ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে আদালতে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে আদালতে এ মামলা দায়েরের আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি আমলে নেন এবং দুদককে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্তু খান, প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, প্রফেসর ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, প্রফেসর ডা. কাজী শহীদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী এবং প্রফেসর ডা. মো. সিরাজুল করিম।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড অভিযোগকারী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের তৎকালীন বাজারমূল্য ২৫১ কোটি টাকা।

কাগজপত্রে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা দেখানো হলেও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা।

মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ শেয়ার অধিগ্রহণ কোনোভাবেই আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও অসৎ অভিপ্রায়ে সাধারণ জনগণের আমানতের অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এই অস্বাভাবিক লেনদেন সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও প্রকাশ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার একে একে অধিগ্রহণ করেছে ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যাদের অনেকের সঙ্গেই এস আলম গ্রুপের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের ধারা, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের সময়ক্রম বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে উভয় পক্ষের ক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রি ও ক্রয়ের লেনদেন একই দিনে সংঘটিত হয়েছে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ শেয়ার স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

এজাহারে দাবি করা হয়, এস আলম গ্রুপ, এর শীর্ষ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের মনোনীত পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এই ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বেআইনি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা নষ্ট করে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এর ফলে সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।