অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে প্রবল বেগে গ্যাস বের হয়ে লাগা আগুন ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হঠাৎ এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে।অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ফায়ার টিম তৎপরতা শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বসতবাড়িতে গত তিন দিন ধরে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলছিল। শ্রমিকেরা প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত পাইপ বসানোর পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হঠাৎ ভূগর্ভ থেকে তীব্র বেগে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিকট শব্দে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তেই তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে অনবরত জ্বলতে থাকে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু ভূগর্ভ থেকে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকায় দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। অনবরত পানি ছিটিয়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার পর সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম ঘটনাস্থলে এসে সরাসরি অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেয়।
এদিকে আগুনের তীব্রতা বাড়ায় সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হ্যান্ডমাইকে প্রচার চালিয়ে আশপাশের সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ঘটনাস্থল ঘিরে উৎসুক মানুষের ব্যাপক ভিড় থাকায় পরিস্থিতি সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, গ্যাস নির্গত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুততম সময়ে অকুস্থলে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইদুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অগ্নিকাণ্ডের শুরু থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে অবিরাম চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই সাথে সেনাবাহিনীর ফায়ার টিম এসে যুক্ত হওয়ায় যৌথভাবে গ্যাস নিঃসরণ থামানো ও আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন