অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
নরমাল ডেলিভারির প্রত্যাশা থাকে প্রতিটি অন্তঃসত্ত্বা নারীর, কারণ সন্তানকে প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীতে আনা মা ও নবজাতক উভয়ের জন্যই সবচেয়ে নিরাপদ। তবে গর্ভধারণের সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ বা ইডিডি পার হয়ে যাওয়ার পর প্রসবব্যথা শুরু না হলে পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেলেও মা ও অনাগত সন্তান সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান জন্মদান পুরোপুরি সম্ভব।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত স্বাস্থ্যপরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসাবিদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির জাতীয় নারীশক্তি আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সম্ভাব্য তারিখ পার হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীর আলাদা হওয়ায় নির্ধারিত দিনের কয়েক দিন পরেও স্বাভাবিকভাবে প্রসবব্যথা শুরু হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ঘরে বসে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করা যাবে না, বরং তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
চিকিৎসক মায়ের রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, গর্ভে বাচ্চার নড়াচড়া ও সঠিক বৃদ্ধি, তরল পানির পরিমাণ এবং জরুরি কিছু শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করেন।
সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে কিছুটা সময় অপেক্ষা করা যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থার ৪১তম সপ্তাহের দিকে কৃত্রিমভাবে প্রসবব্যথা শুরু করানোর বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সবার জন্য দীর্ঘ সাত দিন অপেক্ষা করা নিরাপদ নাও হতে পারে।
ব্যথা নিজে থেকে শুরু না হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রসব শুরু করানো যায়, যাকে লেবার ইনডাকশন বলা হয়।
কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে তা জরায়ুমুখ কতটা নরম ও উন্মুক্ত হয়েছে, শিশুর সঠিক অবস্থান এবং মা ও বাচ্চার সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। জরায়ুমুখ প্রস্তুত না থাকলে বিশেষ ওষুধের মাধ্যমে তা নরম করে উপযোগী করা হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে উপযুক্ত মাত্রায় অক্সিটোসিন ইনফিউশন প্রয়োগ করে কার্যকর প্রসববেদনা তৈরি করা হয়।
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার দিক হলো ঘরে বসে অদক্ষ দাই কিংবা প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়া ইনজেকশন বা ওষুধ দিয়ে কৃত্রিম ব্যথা ওঠানোর অপচেষ্টা করা।
অক্সিটোসিনের ভুল প্রয়োগ জরায়ুর অস্বাভাবিক তীব্র সংকোচন ঘটাতে পারে, যার ফলে গর্ভের বাচ্চার হৃদস্পন্দনে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই এ ধরনের ওষুধ কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ও সরাসরি পর্যবেক্ষণ ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
হাসপাতালের ব্যয়ের ভয়ে অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনভাবে বাড়িতে প্রসবের চেষ্টা করেন, যা মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলে।
মাহমুদা মিতু পরামর্শ দেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলে শুরুতেই সরকারি হাসপাতালের সেবা গ্রহণের সুযোগ নেওয়া উচিত এবং চিকিৎসকের সাথে খোলামেলা কথা বলা প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেন যে স্বাভাবিক প্রসব কোনো প্রতিযোগিতার বিষয় নয়। পরিস্থিতি জটিল হলে মা ও বাচ্চার জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান সেকশন করানোই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত ও সঠিক সিদ্ধান্ত। তাদের মূল লক্ষ্য কেবল স্বাভাবিক প্রসব নয়, বরং সুস্থ মা ও একটি সুস্থ সন্তান নিশ্চিত করা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন