অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর চমকপ্রদ উত্থান দেশটির ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের সমীকরণকে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত করে তুলেছে। প্রাথমিক ভোট গণনার ফলাফলে দেখা গেছে, দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৬টি আসন নিশ্চিত করেছে। ফলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি লিকুদ জোট ৫৫টি আসন নিয়ে সামান্য এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
অপরদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো ৪৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিক। দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকা এই জনগোষ্ঠীর মূল সমর্থন আবর্তিত হয়েছে দুটি প্রধান নির্বাচনি জোট—রা`আম ও জয়েন্ট লিস্টকে কেন্দ্র করে। এবারের ঐতিহাসিক ফলাফলের মধ্য দিয়ে এই দুই জোটের অবস্থান রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা`আমের নেতৃত্বে রয়েছেন মানসুর আব্বাস।
এই দলটি মূলত স্থানীয় আরব সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার, বাজেট বরাদ্দ এবং সামাজিক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আপস ও সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে। ২০২১ সালে ইসরায়েলের কোনো মূলধারার ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকারে অংশ নিয়ে দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছিল।
অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী জোট।
এর মধ্যে রয়েছে ইহুদি ও আরব উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গঠিত বামপন্থি দল হাদাশ, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার আহমাদ তিবির নেতৃত্বাধীন তা`আল এবং সমগ্র দেশের সব নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন সমান অধিকারসম্পন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার থাকা দল বালাদ।
নেতানিয়াহুবিরোধী সম্ভাব্য জোটের ক্ষেত্রে জয়েন্ট লিস্ট একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করার নীতিগত সংকেত দিয়েছে। এর অর্থ হলো, দলগুলো হয়তো সরাসরি কোনো সরকারে অংশ নেবে না, তবে সংসদে আস্থা ভোটের সময় বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে ভোট না দিয়ে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ উন্মুক্ত রাখবে।
নির্বাচনের আগে এই জোটগুলোকে থামানোর একটি আইনি তৎপরতাও প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় আরব জোটকে রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। তবে ২ অক্টোবর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মত রায়ে নির্বাচন কমিশনের সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে আরব দলগুলোকে ভোটে অংশ নেওয়ার পথ উন্মুক্ত করে দেয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন