অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আঙ্গুর আড্ডা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী চৌকি ও বেসামরিক আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী। ইসলামাবাদের অভিযোগ, সীমান্ত প্রোটোকল সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বিনা উসকানিতে এ হামলা চালানো হয়েছে।
আফগান বাহিনীর এই অতর্কিত হামলায় এক স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।
হামলার সময় সীমান্তসংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে সরাসরি মর্টার শেল আঘাত হানে। এতে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আফগান ভূখণ্ডের ভেতর অবস্থিত কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকি থেকে একযোগে এই গুলিবর্ষণ চালানো হয়।
এ সময় পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী চৌকিগুলো লক্ষ্য করে স্নাইপার রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের হালকা ও ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আফগান সদস্যরা। এর পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী তীব্র ও সরাসরি পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানে হালকা ও ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি শক্তিশালী কামান ব্যবহার করে আফগান তালেবানের একাধিক সীমান্ত চৌকি, মর্টার নিক্ষেপ অবস্থান ও প্রতিরক্ষামূলক বাংকার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
আক্রান্ত হওয়ার মুখে আফগান তালেবান সদস্যরা অবস্থান ছেড়ে পেছাতে বাধ্য হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকার ওপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে আঙ্গুর আড্ডা ক্রসিং দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি প্রবেশপথ। এটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বাণিজ্য পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, আফগানিস্তানের দিক থেকে এ ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন একটি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কোনো পূর্ব উসকানি ছাড়াই প্রায়ই গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন