বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর জোর আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১১:০৫ এএম

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর জোর আহ্বান

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য জাপানের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবার, আধুনিক কারিগরি বস্ত্র ও পরিবেশবান্ধব টেকসই পোশাক উৎপাদনের মতো উচ্চমূল্যের খাতে জাপানি পুঁজি বিনিয়োগের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সাথে দ্বিপক্ষীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের নবউদ্ভাবন এবং সবুজ শিল্পায়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কার্যকর সহযোগিতার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইউনিক্লোর মূল নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাদাশি ইয়ানাই। সাক্ষাতের সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতার ওপর ইউনিক্লোর দীর্ঘদিনের অটুট আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সাথে দেশের পোশাক খাতের ঐতিহাসিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো এবং প্রচলিত ধারার বাইরে বৈচিত্র্যময় পণ্য তৈরির জন্য ইউনিক্লোর জোরালো বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি।

বৈঠকে চিরাচরিত তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আধুনিক ম্যান-মেড ফাইবার, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনের অমিত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর যৌথ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এর পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর, কারখানার শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিবিড় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উন্নত কারখানা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী সবুজ উৎপাদনপ্রক্রিয়া জোরদারে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রসারের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানান, বাংলাদেশে ইউনিক্লোর বাণিজ্যিক ও উৎপাদন কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার জন্য জমির দ্রুত সংস্থান, বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

উভয় পক্ষই বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দেন। এই ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

জাপানি প্রতিনিধিদলে ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং একই প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই উপস্থিত থেকে আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।