অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১০:২৪ এএম
হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়ার বিধান নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যায়। অজু করার সময় অসাবধানতাবশত জামা বা পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে নেওয়ার পর তাড়াহুড়োয় সেভাবেই নামাজে দাঁড়িয়ে পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। নামাজের মাঝামাঝি সময়ে বিষয়টি খেয়াল হলে প্রশ্ন জাগে যে নামাজটি শুদ্ধ হলো নাকি তা ভেঙে পুনরায় পড়তে হবে।
ইসলামে নামাজের জন্য কেবল ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করাই যথেষ্ট নয়, বরং পোশাকের শালীনতা ও যথাযথ আদব বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।
ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজে দাঁড়ানোর আগে পোশাক স্বাভাবিক ও পরিপাটি রাখা উত্তম। ইচ্ছাকৃতভাবে জামার হাতা কিংবা পোশাকের কোনো অংশ গুটিয়ে রেখে নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হানাফি মাজহাবসহ একাধিক ইসলামিক আইনশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার আলোকে নামাজের সময় পোশাক এভাবে গুটিয়ে রাখাকে মাকরুহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজি নির্দেশ দিয়েছেন যেন সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করা হয় এবং নামাজে চুল বা কাপড় গুটিয়ে না রাখা হয়। বুখারি শরিফের ৮১০ নম্বর ও মুসলিম শরিফের ৪৯০ নম্বর হাদিসে এই নির্দেশনা স্পষ্টভাবে এসেছে। তাই অজু শেষে হাতা গোটানো থাকলে নামাজ শুরু করার আগেই তা নামিয়ে স্বাভাবিক করে নেওয়া শ্রেয়।
তবে শুধু হাতা গোটানো থাকার কারণে নামাজ সরাসরি বাতিল বা নষ্ট হয়ে যায় না।
নামাজের অন্যান্য অপরিহার্য শর্ত ও ফরজগুলো সঠিকভাবে আদায় করা হলে নামাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবুও জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অবস্থায় ইবাদত করা উচিত নয়। অজুর পর অনিচ্ছাকৃতভাবে হাতা গোটানো অবস্থায় নামাজে দাঁড়িয়ে গেলে এবং পরে তা মনে পড়লে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
নামাজ চলাকালীন বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে অল্প নড়াচড়ার মাধ্যমে এক হাতে হাতা নামিয়ে ফেলা সম্ভব হলে তা করে নেওয়া যায়।
তবে হাতা ঠিক করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট করা বা অতিরিক্ত নড়াচড়া করা যাবে না। কেবল হাতা গোটানো থাকার কারণে নামাজ ছেড়ে দিয়ে নতুন করে শুরু করার কোনো প্রয়োজন নেই। নামাজে শরীর অতিরিক্ত নড়াচড়া করাকে ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় আমলে কাসির বলা হয়। নামাজির এমন কোনো বড় আচরণ যা দেখলে দূর থেকে মনে হতে পারে তিনি নামাজে নেই, তা নামাজকে বাতিল করে দিতে পারে।
পোশাকের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের সুরা আল-আরাফের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, আদম সন্তান যেন প্রত্যেক নামাজের সময় তাদের সুন্দর ও পরিপাটি পোশাক গ্রহণ করে।
এই আয়াত নামাজের সময় শালীন ও সুন্দর পোশাকের গুরুত্ব স্পষ্ট করে। তাই নামাজ শুরুর আগেই সতর ঠিক রাখা, পোশাক বিন্যস্ত করা এবং নামাজের প্রয়োজনীয় আদব নিশ্চিত করা উচিত। ইবাদতের মূল সৌন্দর্য কেবল পোশাকে নয়, বরং অন্তরের বিনয় ও আল্লাহর আদেশ মানার ওপরই নির্ভরশীল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন