বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,
ইসরায়েল নির্বাচনের সমীকরণ

নেতানিয়াহুর দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১০:১৯ এএম

নেতানিয়াহুর দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে ইসরায়েল

নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের আহ্বান এসেছে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, নির্বাচনে ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ওপর ভিত্তি করেই তিনি একটি জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন।

বুথফেরত জরিপ কিন্তু কোনো রাজনৈতিক শিবিরের জন্যই নিরঙ্কুশ বিজয়ের স্পষ্ট সংকেত দেয়নি।

বিভিন্ন জরিপ সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য নির্ধারিত প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে কোনো পক্ষই একক বা জোটগত শক্তিতে সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই লিকুদ পার্টির শীর্ষ নেতা নেতানিয়াহু স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি জানান, চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের জন্য এখনও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে দুটি বিষয় তার দলের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। প্রথমত, ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে লিকুদ পার্টিই এককভাবে বৃহত্তম দল হিসেবে বহাল রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইহুদিবাদী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডানপন্থি শিবিরের একটি স্পষ্ট ও নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিদ্যমান।

নেতানিয়াহুর মতে, এই মুহূর্তে একটি শক্তিশালী, জাতীয়তাবাদী ও ডানপন্থি জোট গড়ে তোলাই একমাত্র করণীয়। ইসরায়েলের অস্তিত্বের মূল ভিত্তির বিরোধী হিসেবে পরিচিত ইহুদিবাদবিরোধী আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে কোনো সরকার গঠন করা দেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বক্তব্যে তিনি নিজের সরকারের সামরিক পদক্ষেপ ও অভিযানের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেন।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাদের গৃহীত সামরিক কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতি ও ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ার, হাসান নাসরাল্লাহ এবং খামেনিসহ শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে নির্মূলের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর ঝুলতে থাকা তাৎক্ষণিক অস্তিত্বগত সংকট ও ধ্বংসের ঝুঁকি প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সাথে তেহরানের ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগ করে পুরো আঞ্চলিক প্রতিরোধ কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।