অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
ইসরাইলের কট্টর সমর্থক, কট্টর বিরোধী কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক—সবার কাছেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আধুনিক ইসরাইলের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রধান প্রতিচ্ছবি। ৭৭ বছর বয়সী এই ঝানু রাজনীতিবিদ ২০২৩ সাল থেকে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযানের সময় দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।
গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
একই সাথে নিজ দেশের আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতির গুরুতর মামলার বিচার প্রক্রিয়াও তাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বহুমুখী সংকট ও আইনি জটিলতার মধ্যেও বর্তমান সাধারণ নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার তীব্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই নেতা।
ডানপন্থি লিকুদ পার্টির শীর্ষ নেতা নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি প্রায় ১৯ বছর ধরে দেশটির সরকার পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
তার কয়েক দশকের রাজনৈতিক পরিক্রমায় বেশ কয়েকটি মোড় ঘোরানো অধ্যায় রয়েছে। ১৯৮২ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসে উপপ্রধান হিসেবে কূটনৈতিক দায়িত্ব পান নেতানিয়াহু। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে তাকে জাতিসংঘে ইসরাইলের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার পর ১৯৮৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসহাক শামিরের মন্ত্রিসভায় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।
দলীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করে ১৯৯৩ সালে ডানপন্থি লিকুদ পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নেতানিয়াহু। ১৯৯২ সালের সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর দলটিকে পুনর্গঠন করে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রধান কারিগরের ভূমিকা পালন করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে মাত্র ৪৬ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নেতানিয়াহু এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘ বিরতি শেষে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন তিনি। এরপর টানা ১২ বছর, অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ইসরাইলের শাসনক্ষমতা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এই সুদীর্ঘ শাসনকালই তাকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্থায়ী পরিচিতি এনে দেয়।
রাজনৈতিক ছন্দপতনের পর ২০২২ সালে ষষ্ঠবারের মতো জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর মসনদে ফিরে আসেন নেতানিয়াহু। তার নেতৃত্বে গঠিত এই প্রশাসনকে ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি সরকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
দীর্ঘ শাসনকাল ও বারবার নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় ফেরার অতীত রেকর্ড থাকলেও নেতানিয়াহুর বর্তমান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে বৈশ্বিক সমালোচনা, আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং নিজস্ব দুর্নীতির মামলা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চলমান নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আবারও সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেশটির রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন