অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তেল আবিবগামী নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ কৃত্রিমভাবে বিলম্ব ঘটাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি পক্ষ। ঘটনাটিকে ঘিরে শুরু থেকেই এমন একটি বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে যেন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধপরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার দুবাইয়ে অবস্থান করা ইসরাইলি যাত্রীদের আর্কিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি ইসরায়ার নামের আরেকটি সংস্থার উড়োজাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতিও রয়েছে। তবে ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সমস্ত নিয়মিত ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের লাগেজ ফিরিয়ে দিতে একটি পৃথক কার্গো বিমান পাঠানোর শর্তও ছিল আমিরাত প্রশাসনের অন্যতম দাবি।
উদ্ধারকারী ফ্লাইট পরিভাষাটি ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে নাটকীয় করে তোলার তীব্র সমালোচনা করেছে আমিরাত সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। দেশটির মতে সেখানে কোনো যুদ্ধাবস্থা নেই, অথচ ইসরাইলি পক্ষ এমন প্রচার চালাচ্ছে যেন দেশটি গুরুতর কোনো বিপর্যয়ে পড়েছে। আমিরাতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে যে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবারের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জোর করে ইরানের সংশ্লিষ্টতা টানার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন নেতানিয়াহু।
পুরো সংকটটিকে জিইয়ে রাখার নেপথ্যে ইসরাইলের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কৌশল কাজ করছে। ওই কূটনৈতিক সূত্রটির ভাষায় পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যেন একজন ব্যক্তি নিজেই কোথাও আগুন লাগিয়ে আবার তা নেভানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে ছুটে আসছে। এর আগে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এগারোই সেপ্টেম্বরের মতো একটি বড় আকারের বিমান বিপর্যয় রুখে দেওয়া গেছে। হামলাকারী উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি আছড়ে ফেলে ধ্বংস করতে চেয়েছিল বলেও তেল আবিবের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়।
ইসরাইলের আরোপিত এই বিধিনিষেধের যৌক্তিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে আরব আমিরাত। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী নিজ দেশের যাত্রীরা যদি বিশেষ উড়োজাহাজে চড়ে ফিরতে পারেন, তবে ফ্লাইদুবাইয়ের নিয়মিত বিমানে তাদের যাতায়াতে বাধা থাকার কথা নয়। ইতিহাদ এয়ারলাইন্স এরই মধ্যে আবুধাবি রুটে আটটি ফ্লাইটে বাড়তি ও সমন্বিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিবহন অব্যাহত রেখেছে, যা ফ্লাইদুবাইয়ের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব ছিল।
সন্দেহভাজন ওমানি সহপাইলট ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি ভূপাতিত করার চক্রান্ত করেছিলেন কি না, তা উদঘাটনে নিজস্ব উদ্যোগে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছে আমিরাতি তদন্ত সংস্থা। বিমান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতেও দেশটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় একটি নিরাপত্তাগত ঘাটতি তৈরি হয়েছিল বলে স্বীকার করলেও সংকট সমাধানের বিপরীতে তেল আবিবের এমন অস্বাভাবিক ও দিশাহারা আচরণে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে আমিরাতের প্রশাসনিক মহলে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন