অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দেশের সামগ্রিক তরুণ প্রজন্মকে এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ভারতে যারা অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন দেখতে চান তাদের সবাইকে এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান দীপকে।
এর আগে শুক্রবার গান্ধীজয়ন্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগসহ একাধিক দাবিতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জড়ো হয়েছিলেন দলটির কর্মী-সমর্থকরা। তাদের ডাকে সেখানে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। মূলত ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) নামে গণহারে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নানা নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
সমাবেশ থেকেই গভীর রাতে ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলনের ডাক দেন অভিজিৎ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন, জ্ঞানেশ কুমার অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে সারা দেশ থেকে কর্মীরা মিছিল নিয়ে দিল্লি অভিমুখে রওনা হবে এবং ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাবে। দিল্লি পুলিশ যদি তাদের গতিরোধ করার চেষ্টা করে, তবে যেখানেই তাদের বাধা দেওয়া হবে সেই স্থানটিই যন্তর মন্তরে রূপান্তরিত হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রাজধানীমুখী এই ডাকের পেছনে রয়েছে দেশজুড়ে জোরালো বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট। শুক্রবার মুম্বাই ছাড়াও নতুন দিল্লি, চেন্নাই, কলকাতা ও রাঁচিসহ ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় দিল্লি মেট্রোর অন্তত ১১টি স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশ আম আদমি পার্টির নেত্রী আতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সংসদ সদস্য মনোজ ঝাসহ অন্তত এক হাজার ১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন