অক্টোবর ২, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে নিহত হিসেবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমে ঘোষিত মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসাকে সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফকে মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, আসিফ সম্পূর্ণ জীবিত এবং সুস্থ অবস্থায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন।
ভারতীয় দাবি প্রত্যাখ্যান করে পুরো ঘটনাটিকে একটি সাজানো নাটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসলামাবাদ। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় পরিচালিত একটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা অভিযানের মুখে নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ কমান্ডার মুসা ওরফে আসিফ ফৌজি নিহত হয়েছেন। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এই ব্যক্তি ২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলাসহ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী নাশকতার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো পরবর্তী প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এলিট স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসা হিসেবে দাবি করে খবর প্রচার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের আইএসপিআর প্রধান ভারতীয় এসব অভিযোগকে সরাসরি একটি বিভ্রান্তিকর মিথ্যা অভিযান বা ফলস ফ্ল্যাগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মঞ্চে এসে মোহাম্মদ আসিফ সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে নিজের নিহত হওয়ার খবর প্রচারের বিষয়টি তিনি পরিচিত বন্ধুদের ফোনকলের মাধ্যমে জানতে পারেন। এমনকি সেই সময় ভারতীয় একাধিক অচেনা টেলিফোন নম্বর থেকেও তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। আসিফ দাবি করেন, কাশ্মীর সীমান্তে কথিত অভিযানের সময় তিনি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে নিজের পারিবারিক বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন।
নিজের সামরিক কর্মজীবনের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০০ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সাধারণ সৈনিক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৫ সালে বিশেষ কমান্ডো দল স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৩ বছর সেবা শেষে ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে স্বাভাবিক অবসর গ্রহণ করেন। তবে ইসলামাবাদে ব্যক্তির উপস্থিতির পরও ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ তাদের সামরিক অভিযানের পূর্ববর্তী দাবি থেকে সরে আসেনি।
ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক ভাষ্যমতে, বাডগামের অভিযানে মুসা ওরফে আসিফ ফৌজি নিহত হয়েছেন এবং একই সাথে তাঁর সাথে যুক্ত সশস্ত্র নেটওয়ার্কের চারজন শীর্ষ সদস্যকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই দুই প্রতিবেশী পারমাণবিক শক্তির মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা ও গোয়েন্দা যুদ্ধ ক্রমাগত তীব্র রূপ নিয়েছে, যার সাথে কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ শুরু থেকেই সরাসরি অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।
তথ্যসূত্র: ডন

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন