অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কতা, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এক লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ময়মনসিংহ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন জরুরি উদ্ধার ও পরবর্তী টেকসই পুনর্গঠনকে সমন্বিত রূপ দিয়ে মাঠে কাজ করছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল বাজারে সাম্প্রতিক আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের পাবিয়াজুরি ও গোরকপুর গ্রামে ১৫টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয় এবং ৫৪টি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়ে।
ঝড়ের পরপরই গত ২২ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ময়মনসিংহ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন প্রিন্স।
ধুরাইল বাজারে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃঢ়চেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনকল্যাণে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থরক্ষা, নাগরিক নিরাপত্তা বিধান এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে সরকার সম্পূর্ণ আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ, অবৈধ দখল, মাদক, সন্ত্রাস, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার, অনৈতিকতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করছে। সমাজে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সে কখনোই কোনো ছাড় পাবে না।
তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলার নীতি কেবল সংকট কেটে যাওয়ার পর ত্রাণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। বিপদ আসার আগে মানুষকে সতর্ক করা, ঘটনার সময় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে দ্রুত মানুষকে উদ্ধার করা এবং দুর্যোগের পর ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হচ্ছে সরকারের সমন্বিত কৌশল। এই রূপরেখা বাস্তবায়নেই এক লাখ নতুন স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ ইউনিটকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি মডেল ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতেও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির মূল অঙ্গীকার হলো দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা। অসহায় নাগরিকদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের টেকসই পুনর্বাসনে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
বক্তব্য শেষে তিনি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩টি পরিবারের সদস্যদের হাতে রান্নাঘরের তৈজসপত্র, পুনর্বাসন সামগ্রী, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা পার্সেল ও ত্রিপল তুলে দেন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, হালুয়াঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কাজিম উদ্দিন, ধুরাইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক মাসুম বিল্লাহ, সদস্য সচিব সারোয়ার জাহান স্বাধীন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, গোরকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদ উল্লাহ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর আরেফিন পাপন এবং যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্য মাহমুদুল হাসান। ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে তৈয়বুর রহমান, জালাল উদ্দিন ও রয়মন নেছা নিজেদের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এছাড়া যুব রেড ক্রিসেন্টের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন