শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উদ্ভাবনী চিন্তা চাই: খন্দকার মুক্তাদির

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উদ্ভাবনী চিন্তা চাই: খন্দকার মুক্তাদির

জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা, সুপ্ত মেধা ও নতুন ধারণার বহুমুখী বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বিসিআইসি কলেজে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত উদ্ভাবনী প্রদর্শনী পরিদর্শন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। উৎপাদনশীলতা কোনো স্থির বিষয় নয় বরং এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন চলমান সংস্কৃতি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতার কোনো চূড়ান্ত বা নির্দিষ্ট শেষ সীমা নেই। কম কর্মঘণ্টা ব্যয় করে তুলনামূলক অধিক এবং উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন অর্জন করাই আধুনিক উৎপাদনশীলতার মূল লক্ষ্য ও দর্শন। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদনশীলতা একটি রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির মতো এবং বিশ্বের যে দেশগুলো এই সংস্কৃতি নিজেদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গভীরভাবে ধারণ করেছে, তারাই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অভাবনীয় ও টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করেছে।

ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ে কম পরিশ্রমে বেশি ফল অর্জনই অর্থনীতির টেকসই চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী প্রজেক্টের প্রশংসা করে মন্ত্রী জানান, প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত খুদে বিজ্ঞানীদের মেধা ও মৌলিক চিন্তাশক্তি তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। উপস্থাপিত ধারণাগুলোর অনেকগুলো এখনো হয়তো পূর্ণাঙ্গ যন্ত্র বা ব্যবহারযোগ্য বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ নেয়নি, তবে এসব মৌলিক ভাবনাই ভবিষ্যতের বৈপ্লবিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মজবুত ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি ঘোষণা করেন যে আজকের প্রদর্শনীতে যেসব শিক্ষার্থী নিজেদের সেরা উদ্ভাবনী ধারণার জন্য পুরস্কৃত হয়েছে, তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ দল আলাদাভাবে বিশেষ বৈঠকে বসবে। বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার মাধ্যমে যাচাই করে দেখা হবে কোন প্রকল্পগুলো বাণিজ্যিকভাবে দেশের বাজারে প্রয়োগ করা সম্ভব। সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোকে লাভজনক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন প্রজন্মের তরুণরা ইতিবাচক ও বৈজ্ঞানিক কোনো উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে এলে সরকার এবং রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সার্বিক সহায়তা দিতে তাদের পাশে থাকবে।

একই সঙ্গে বিসিআইসি কলেজকে একটি আধুনিক ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে অবকাঠামো সহায়তার আশ্বাস দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে ক্লাসরুমে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম, সিসি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রজেক্টরসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষাপোকরণ নিশ্চিত করা হবে।

আলোচনা সভায় ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক মো. নায়েব আলী সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং বিসিআইসি কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল ড. মো. মোকসেদ আলী। অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বক্তব্য পর্বের পর মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী।