অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
স্বাস্থ্য খাতে জাপানের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা এবং চিকিৎসা খাতকে ভবিষ্যৎমুখী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হেলথকেয়ার বিজনেস সেমিনারে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সেমিনারটির যৌথ আয়োজক ছিল জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা এবং জাপান বহির্বাণিজ্য সংস্থা জেট্রো।
অনুষ্ঠানে জাপানের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নেন। ভিডিও বার্তায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রান্তিক পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে জাপানি পুঁজি, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জাপান দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, টিকাদান কর্মসূচি সফল করা, চিকিৎসা অবকাঠামো নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে জাইকা ও জাপান সরকারের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল, উন্নত রোগনির্ণয় ব্যবস্থা, বায়োমেডিকেল প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিপরীত দিকে জাপানে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্যের কারণে সেখানে দক্ষ নার্স ও সেবাকর্মীদের তীব্র সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত করে জাপানের এই সেবা খাতের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, জৈবপ্রযুক্তি, ভ্যাকসিন ও ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ ও যৌথ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস পৃথক দুটি দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অগ্রগতি, অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিশদ চিত্র তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগের বাস্তবিক সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করেন জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক তেতসুয়া ইয়ামাদা, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ-চার-এর উপপরিচালক হিরোকি সাসাকি এবং জেট্রোর দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ইউজি আন্দো। পাশাপাশি বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বিষয়ক কাজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন জাপানি প্রতিষ্ঠান ইউগ্লেনা কোম্পানি লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নাও নিত্তা।
মূল আলোচনার সমাপ্তি পর্বে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ সৃষ্টির নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন