অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী দিল্লির রাজপথে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতিশী মারলেনা ও আম আদমি পার্টির দিল্লি প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজসহ সাত শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি ডাকা হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রমে মারাত্মক কারসাজি করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে বলে দাবি জানান তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিউ দিল্লি জেলাজুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে জনসমাগম নিষিদ্ধ করে প্রশাসন।
তবে পুলিশের দাবি উপেক্ষা করে আম আদমি পার্টি, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নামেন। এক ভিডিও বার্তায় আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ জানান, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এই কর্মসূচির অনুমতির জন্য তারা ছয় দিন আগেই আবেদন জমা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে রাইসিনা রোডে অবস্থিত দলীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করেন ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির সভাপতি উদয় ভানু চিবের নেতৃত্বে মিছিলটি বের হলে পুলিশ তাদের কঠোর ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।
উদয় ভানু চিব অভিযোগ করেন, প্রতিটি ভোটের মর্যাদা রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব হলেও তাদের ভূমিকা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে দেশের তরুণ সমাজ কখনোই নীরব থাকতে পারে না। বিক্ষোভ চলাকালে দশ বা তার বেশি মানুষ একত্রিত হলেই পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতিশী মারলেনা, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, বিশিষ্ট সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং ছাত্র সংগঠন এআইএসএ-র সভাপতি নেহা বোরাসহ শত শত বিক্ষোভকারীকে জোরপূর্বক বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আটককৃতদের দিল্লির বাদরপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন দূরবর্তী থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
যন্তর-মন্তর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জনপথ এলাকা বিক্ষোভের আরেকটি উত্তপ্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়, যেখানে বহু আন্দোলনকারী অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যেতে বাধা দেয়। সমাবেশকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয় এবং রাজীব চৌক, যন্তর-মন্তর ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। একই ইস্যুতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জেল ভরো আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি নামের আরেকটি রাজনৈতিক দল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন