অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ইরানে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে নতুন নৌবহর পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে সংঘাতপূর্ণ ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌসেনা ও নাবিকের সম্মিলিত সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
সামরিক এই তৎপরতার মধ্যেই যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বে উভচর যুদ্ধজাহাজের বহর মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এসব জাহাজে সাত হাজারের বেশি নাবিক ও দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা অবস্থান করছেন।
অক্টোবরের শেষ নাগাদ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একযোগে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করবে বলে পেন্টাগনের পদস্থ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই জলসীমায় বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস বক্সার উভচর যুদ্ধজাহাজের বহর। বিশাল এই বহরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শত শত আধুনিক যুদ্ধবিমান।
বৃহস্পতিবারে প্রকাশিত টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংঘাতের পরবর্তী ধাপের কৌশল নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
তিনি জানান, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই ইরানে বোমাবর্ষণের তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হতে পারে। হামলার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা কৌশলগত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তেহরানের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হরমুজ প্রণালির নৌপথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার ইরানি প্রস্তাবকেও যথেষ্ট বা সন্তোষজনক মনে করছেন না তিনি।
ইরানের সঙ্গে চলমান এই সামরিক সংঘাত নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প প্রাথমিক জবাবে সেই সম্ভাবনা স্বীকার করেন। তবে দ্রুতই অবস্থান বদলে তিনি দাবি করেন, তেহরান যাতে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে বিষয়টি ব্যালট বাক্সে রিপাবলিকানদের পক্ষেই যাবে। প্রথমদিকে স্বল্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার আভাস দিলেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন