অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামেই কেবল আন্তর্জাতিক, কিন্তু টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও চরম অব্যবস্থাপনা দেখলে যে কারও এটিকে মাছের বাজার মনে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে চলমান আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মানের সেবার চরম ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে বিমানবন্দর প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, প্রতিবেশী ভারত কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় সাধারণ যাত্রীরা তাঁদের লাগেজ বুঝে পান। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা এমনকি চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পরও যাত্রীরা নিজেদের লাগেজ খুঁজে পান না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, লাগেজ প্রাপ্তিতে এই চরম অস্বাভাবিক বিলম্বের পাশাপাশি লাগেজের তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল চুরি যাওয়া এবং নানা অজুহাতে বিদেশফেরত যাত্রীদের নিরাপত্তা ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পদে পদে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়।
বিমানবন্দরের এই লাগেজ অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী ভোগান্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে রাষ্ট্র ও বিমান মন্ত্রণালয় এই চরম নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি জড়িত বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। অথচ বাস্তবে দেখা গেল চরম বিপরীত চিত্র; যারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হয়ে এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছিলেন, উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই একের পর এক মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি অবিলম্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশফেরত যাত্রী ও সাধারণ প্রবাসীদের যাবতীয় হয়রানি বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সাথে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক সাজানো মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন