শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার বর্ণনা দিলেন ভারতীয় পাইলট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার বর্ণনা দিলেন ভারতীয় পাইলট

ছবি: সংগৃহীত

মাঝআকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত ছুরি হামলার শিকার হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে উড়োজাহাজে থাকা ১৭৪ জন আরোহীর প্রাণ বাঁচানোর লোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে তিনি ওই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষ স্মৃতি তুলে ধরেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নাকে কৃত্রিম অক্সিজেনের নল এবং মাথা ও হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থাতেই সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত প্রায় ১০ মিনিটের ওই কথোপকথনে নিজের সেই লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ভারতীয় এই বৈমানিক বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একাধিকবার চোখ মোছেন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্মিত মচ্ছার জানান, হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলেন এবং স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছিলেন উড়োজাহাজটি খাড়া নিচের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। সেই চরম মুহূর্তে নিজের মানসিক শক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম এবং নিজেকে শুধু একটি কথাই বলেছিলাম—দরজাটি ঠিক ওখানেই আছে, যেকোনো মূল্যে এটা খুলে দিতে হবে। 

শেষ পর্যন্ত আঘাতের মধ্যেও দরজাটি খুলতে সক্ষম হওয়ায় বাইরের ক্রু ও আরোহীরা দ্রুত ককপিটের ভেতরে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছিলেন। নিজের দীর্ঘ বৈমানিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে উড়োজাহাজ চালাচ্ছেন এবং ১১ বছর ধরে সফলভাবে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করছেন। অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে টের পেয়েছিলেন বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। তাঁর এই নজিরবিহীন মানসিক দৃঢ়তা ও উপস্থিত বুদ্ধির অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে স্মিত মচ্ছারের এই আত্মত্যাগ বহু মানুষের তাজা প্রাণ রক্ষা করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় পাইলটদের পেশাগত মর্যাদা ও সুনাম অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছে। ঘটনাটি ঘটেছিল গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে। সেদিন বিমানটিতে ১৭৪ জন আরোহী ছিলেন। গতিপথের একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। উড়োজাহাজের এই আকস্মিক ও বিপজ্জনক পতনের চরম মুহূর্তে ককপিটের ভেতরে স্মিত মচ্ছারকে তাঁর সহকারীর হাতে ছুরিকাহত হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।