শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

হিলিতে মাদকের বিস্তার: শহর ছেড়ে গ্রামেও বাড়ছে প্রকোপ

কুদ্দুস আলী খান

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

হিলিতে মাদকের বিস্তার: শহর ছেড়ে গ্রামেও বাড়ছে প্রকোপ

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুরের হিলি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে নানা ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্য। অতীতে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের তৎপরতা মূলত শহরকেন্দ্রিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা হিলির প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকের এই আগ্রাসী বিস্তারে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক শৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। বাসাবাড়ির অলিগলি, ঝুপড়ি কিংবা পরিত্যক্ত ঘরে অবাধে চলছে মাদক সেবনের কারবার।

মাদক কেনাবেচা ও সেবনের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্টদের পরিবার ও বাড়ির লোকজনের তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়। সেই বাধা অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে মাদক সেবনের চিত্র। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় প্রতিনিয়ত চলছে এই কারবার, যেখানে কিশোর ও তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষ এমনকি নারীরাও এই মরণ নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। হাকিমপুর উপজেলার শহরকেন্দ্রিক এলাকাগুলোর মধ্যে চুড়িপট্টি, মহিলা কলেজ পাড়া এবং মাঠপাড়াসহ বেশ কয়েকটি চিহ্নিত স্থানে আগে মাদকের কেনাবেচা ও সেবনের কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল।

বর্তমানে এই চক্রগুলোর তৎপরতা শহর ছাড়িয়ে সরাসরি প্রত্যন্ত গ্রামে বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে সমাজে দ্রুত পারিবারিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তরুণ সমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সামাজিক সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন, মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অপরিহার্য।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের ধারাবাহিকভাবে আটক করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সীমান্তপথে মাদকের সরবরাহ বন্ধ ও সমাজ থেকে এই ব্যাধি নির্মূলে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।