শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,
পারমাণবিক জ্বালানি

রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসছে আজ: ঢাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসছে আজ: ঢাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা

আন্তর্জাতিক আকাশপথের পরিবহন জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত পারমাণবিক জ্বালানির চালান আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বাংলাদেশে আসছে। রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে করে পাঠানো ইউরেনিয়ামের এই চালানটি দুপুর নাগাদ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সড়কপথে এই জ্বালানি সরাসরি পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে।

পরিবহন জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সূচিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। রাশিয়ার দেওয়া মূল সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই এই জ্বালানি চালান ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দফায় ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর সময় পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের প্রেস কনসালটেন্ট প্রধান ড. ফরহাদ কামাল জানিয়েছেন যে শুক্রবার দুপুর নাগাদ এই চালান ঢাকায় পৌঁছাতে পারে। যদিও ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমানটি ঠিক কোন আকাশপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে মূল পথে কোনো জটিলতা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে চীন হয়ে জ্বালানি আনার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

বিকল্প যেকোনো পথেই আসুক না কেন জ্বালানি গ্রহণে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নির্ধারিত আকাশপথে অনুমতি না মিললে চীন হয়ে বিকল্প পথে চালানটি পৌঁছাতে পারে এবং কর্তৃপক্ষ যে পথেই আসুক তা নিরাপদে গ্রহণের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান জানান, প্রথম ইউনিটের জন্য ১২ টিপিএস ইউরেনিয়াম নিয়ে ১ অক্টোবর রাশিয়া থেকে কার্গো বিমানের উড্ডয়নের কথা ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, চালানটি কোন পথে বাংলাদেশে আসছে সেটি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয় হলেও বাংলাদেশ এটি শতভাগ নিরাপত্তার সাথে গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর নির্দিষ্ট সময় পর চুল্লির সক্ষমতা বজায় রাখতে বাড়তি জ্বালানির সংস্থান করতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত একটি পারমাণবিক কেন্দ্র সচল হওয়ার এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের বাধ্যবাধকতা থাকে এবং রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য সেই অতিরিক্ত জ্বালানিই এবার আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিমানবন্দর থেকে প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপদে পরিবহনের সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারিগরি প্রস্তুতিও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। টানা প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর প্রথম ইউনিটের অটোমেটিক প্রেশার রিলিফ ভালভের প্রথম ধাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষাটি ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরিচালনা করা হয় এবং পরবর্তী পরীক্ষাটি ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে সম্পন্ন করা হবে। এই শেষ ধাপের পরীক্ষা সফল হলে প্রথম ইউনিটে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় আর কোনো বড় কারিগরি প্রতিবন্ধকতা অবশিষ্ট থাকবে না। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোসাটম জানিয়েছিল যে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও দেশে পৌঁছাবে বলে দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।