অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রকল্পটির প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ বা পিআরওভির জটিলতা পুরোপুরি সমাধানের পর ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে এর আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি রূপপুরের প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ উভয় স্থান থেকেই সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হয়।
বৃহস্পতিবার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড বা এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান ভালভের সমস্যা দূর হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক ধাপে সফলতার পর খুব দ্রুতই ১৮ মেগাপাসকেল চাপে পরবর্তী পরীক্ষাটি পরিচালিত হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান যে মূল পরীক্ষার শুরুতে কন্ট্রোল ভালভগুলোর স্বাভাবিক কার্যকারিতা সূক্ষ্মভাবে যাচাই করে দেখা হয়। সেখানে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রধান সেফটি ভালভের সার্বিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ওই সময় ভালভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া, সংকেত ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে জড়িত বিভিন্ন স্পর্শকাতর কারিগরি পরামিতি সতর্কতার সাথে নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিকিরণ সুরক্ষাসহ সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কঠোরভাবে বলবৎ ছিল। পারমাণবিক চুল্লির প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই ভালভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সেফটি ভালভের কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময়সূচি মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই ত্রুটির কারণে গ্রিডে বিদ্যুৎ যাওয়া পিছিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়ার সরকারের সাথে জরুরি কূটনৈতিক আলোচনার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের রুশ বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সাথে রুশ প্রতিনিধিদের যৌথ সমন্বয়ে এই জটিল ত্রুটি সম্পূর্ণ মেরামত করা সম্ভব হয়।
এদিকে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সরবরাহ চুক্তির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি বিশেষ বিমানে এই চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে একাধিক ফ্লাইটের মাধ্যমে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় সব জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর শুক্রবার সকালে কঠোর ও বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় এই ইউরেনিয়াম পরিবহন করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন