অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
মিষ্টি, পায়েস, মিষ্টি চা কিংবা কোমল পানীয়ের মতো চিনিযুক্ত নানা খাবার ও পানীয় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অত্যন্ত পরিচিত অনুষঙ্গ। অনেক সময় সচেতনভাবে খেয়াল না করলেও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত ও মুখরোচক খাবারের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি চিনি শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের মতে, মিষ্টি খাওয়ার দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাস থাকলে তার পরিমাণের দিকে কঠোর নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে সবার জন্য এই সচেতনতার স্তর এক রকম নয়; বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থায় খাবারে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে যারা বাড়তি ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাদের মিষ্টিজাতীয় খাদ্য পরিহার করা উচিত। চিনি থেকে মানবদেহে মূলত অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হয়। নিয়মিত মিষ্টি খাদ্য, চিনিমিশ্রিত পানীয়, ভারী মিষ্টি চা কিংবা প্যাকেটজাত খাবার খেলে অজান্তেই দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, অতিরিক্ত ফ্রি সুগার গ্রহণ মানবদেহের অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এ ছাড়া যাদের রক্তে শর্করা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকায় চিনি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে নিজে থেকে হঠাৎ সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করাই নিরাপদ পন্থা।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সুস্থ রক্তসঞ্চালন বজায় রাখতেও চিনি গ্রহণের মাত্রা সীমিত রাখা প্রয়োজন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অ্যাডেড সুগার গ্রহণের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তাদের হিসাব মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ২৫ গ্রাম এবং পুরুষের জন্য প্রায় ৩৬ গ্রাম পর্যন্ত অ্যাডেড সুগার গ্রহণ স্বাস্থ্যসম্মত। এই পরিমাপটি শুধু চায়ে ব্যবহৃত চিনির জন্য নয়, বরং কোমল পানীয়, মিষ্টি দই, কেক, বিস্কুট, চকলেটসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। অন্যদিকে দাঁতের মারাত্মক ক্ষয়রোগ বা ক্যাভিটি রোধ করতে চিনি বর্জন বড় ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, খাবার ও পানীয়ের ফ্রি সুগার দাঁতের ক্ষয়ের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
ফ্রি সুগারের পরিমাণ মোট দৈনিক ক্যালরির ১০ শতাংশের নিচে রাখতে পারলে দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়। আরও ভালো সুফল অর্জনে এই মাত্রা পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার বৈজ্ঞানিক সুপারিশ রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও চকলেট ও চিনি মেশানো খাবারের অভ্যাস কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। সাধারণ দুই হাজার ক্যালরির দৈনিক খাদ্যতালিকায় দশ শতাংশ ফ্রি সুগার মানে প্রায় ৫০ গ্রাম বা বারো চা-চামচ চিনি। আর পাঁচ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় এটি প্রায় ২৫ গ্রামের সমতুল্য। তবে প্রাকৃতিক গোটা ফলে থাকা স্বাভাবিক চিনি ফ্রি সুগারের আওতায় পড়ে না। ফলে চিনি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য কখনই ফলমূল খাওয়া বন্ধ করা নয়, বরং কৃত্রিম মিষ্টি পানীয়, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টান্ন ও রান্নার বাড়তি চিনি কমানোই এর মূল ভিত্তি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন