সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এখনই জাতীয় গ্রিডে কোনো বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে না। চলতি মাসে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছে সরকার। চুল্লির সেফটি ভালভ কাজ না করাই এই বিলম্বের মূল কারণ। মঙ্গলবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চুল্লির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল দেশে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নতুন নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি মন্ত্রী। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আগে একটি সময়সীমা দিয়ে হোঁচট খাওয়ায় এখন আর নতুন করে সময় ঘোষণা করা হচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদেশ থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতি দেখে পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, পরমাণু কেন্দ্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বেশ কয়েকটি পর্যায় রয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট জটিল স্তরে পৌঁছানোর পরই দেশবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরবরাহের সময় জানানো সম্ভব হবে।
এর আগে ফুয়েল লোডিংয়ের আগে প্রায় দুই হাজারের বেশি কারিগরি পরীক্ষা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং সেফটি ভালভের এই ত্রুটি না ঘটলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যেত বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী। একই সাথে তিনি নিশ্চিত করেন যে, রূপপুর থেকে উৎপাদিত এই বিদ্যুতের মূল্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে।
দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই রূপপুরের এই বিলম্বের খবরটি সামনে এলো। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার মেগাওয়াট। ভারত ও নেপাল থেকে আমদানিসহ গ্রিড পর্যায়ের সক্ষমতা ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট হলেও গত ১০ আগস্ট দেশে তিন হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়, যা গত ৫৫ বছরের মধ্যে একটি রেকর্ড।
মূলত আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া `ইনোভেশন ফেয়ার` উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১২ তারিখ এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন, যার প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় উদ্ভাবনের সাথে নীতি নির্ধারণ, শিল্প খাতে বিনিয়োগ এবং বাজারের সুযোগের সরাসরি সংযোগ ঘটানো।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন