বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

ইসলামিক দল পরিচয়ে বেপর্দা নারী দিয়ে মিছিল কেমন রাজনীতি: চরমোনাই পীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

ইসলামিক দল পরিচয়ে বেপর্দা নারী দিয়ে মিছিল কেমন রাজনীতি: চরমোনাই পীর

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঠিক প্রতিফলনের ওপর জোর দিয়ে কয়েকটি ইসলামী দলের আচরণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বুধবার রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি হাজীগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক ওয়াজ ও ধর্মীয় মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করেন। ইসলামের নীতি ও আদর্শের সাথে রাজনৈতিক কার্যক্রমের মিল থাকা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন যে দেশ খেয়েছে খাজুরেরা আর নাম পড়েছে হুজুরের, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করে। 

ইসলামী পরিচয়ে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চরমোনাই পীর বলেন ইসলামিক দল নাম ব্যবহার করে বেপর্দা নারীদের দিয়ে রাজপথে মিছিল ও মিটিং করানো হলে তারা আসলে কেমন ইসলামিক দল সেই প্রশ্ন সামনে চলে আসে। তিনি স্পষ্ট করেন যে একজন প্রকৃত মুসলমান কখনো মিথ্যা বলতে পারে না এবং প্রতিটি রাজনৈতিক পদক্ষেপে ধর্মীয় অনুশাসনের স্পষ্ট প্রতিফলন থাকতে হবে।

সমাজ ও রাষ্ট্রে বিস্তার লাভ করা বহুমুখী অনাচারের বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার হন। তিনি দেশে বিদ্যমান চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং অর্থ লুটপাটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে বৃহত্তর সামাজিক বলয়ে সততা, আমানতদারি ও ইসলামী মূল্যবোধের সার্বিক চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। 

মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং শোষণমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে সর্বস্তরের জনগণকে সম্মিলিত ভূমিকা পালনের ডাক দেন তিনি। মাহফিলে হাজীগঞ্জের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং মুজাহিদ কমিটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান মানুষের মাঝে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করে একটি আদর্শ সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।