অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
স্বৈরাচারী শক্তি এবং গুপ্ত রাজনৈতিক মহল আবারও এক হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শক্তির পলায়নের পর একটি নির্দিষ্ট গুপ্ত গোষ্ঠী তাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে এবং অতীতে ১৯৯১, ১৯৮৬ এবং বিগত জাতীয় নির্বাচনেও তারা ভেতরে-ভেতরে একসঙ্গে তৎপর ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধারাবাহিক জেল-জুলুম, হত্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। অথচ রাজপথের সেই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন-সংগ্রামে এই গুপ্ত শক্তির কোনো ভূমিকা ছিল না। তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এক দফার কথা বলে দেশে পরিকল্পিতভাবে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা অতীতে মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল কিংবা যারা এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে, তাদের কি জনগণের কল্যাণে কোনো বাস্তবমুখী কর্মসূচি রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বন্ধ কলকারখানা চালু, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার মতো কোনো উদ্যোগ তাদের রাজনীতিতে নেই।
দেশের খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি প্রণোদনা পৌঁছানো হলে গ্রামীণ অর্থনীতি স্বাবলম্বী হবে। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের কাছে বেহেশতের টিকিট বিক্রির মতো বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননা করছে। জান্নাত ও জাহান্নামের একমাত্র মালিক আল্লাহ এবং কোনো ব্যক্তি তা দেওয়ার দাবি করলে তা মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যাদের কোনো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা নেই, যারা কেবল ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করে, দেশ পরিচালনায় এলে তারা মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন করতে পারবে না।
জনসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের হাতে সম্মানী ভাতা তুলে দেন। সমাবেশ শেষে তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এর আগে সফরের অংশ হিসেবে দুপুর আড়াইটায় পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন